20/09/2026
নতুন রাইডারদের জন্য কিছু টিপস👇📌
সমতল থেকে হাইওয়ে—লং রাইডে যাওয়ার আগে ও রাইডিংয়ের সময় যেসব বিষয় খেয়াল রাখবেন
আমরা যারা নিয়মিত বাইক চালাই, শহর কিংবা আশপাশের রাস্তায় চালানো আর টানা ৩-৪ ঘণ্টা হাইওয়েতে রাইড করা সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। বিশেষ করে যারা নতুন লং রাইড বা ট্যুরে যাচ্ছেন, তাদের জন্য নিজের অভিজ্ঞতা থেকে কিছু জরুরি টিপস শেয়ার করলাম।
১. বের হওয়ার চার পাঁচ দিন আগে বাইকের ইঞ্জিন ওয়েল, ব্রেক প্যাড, ক্লাচ কেবল, চেইন টেনশন এবং টায়ারের থ্রেড/প্রেসার চেক করে নিন। কোনো ছোটখাটো সমস্যা থাকলে আগেই মেকানিক দিয়ে সারিয়ে নিন। কোন সমস্যা থাকলে এই কয়েকদিন এ বের হয়ে আসবে।
২. হাইওয়েতে গতি বেশি থাকে, তাই নিরাপত্তার সাথে কোনো আপস নয়। সার্টিফাইড ফুল-ফেস হেলমেট, রাইডিং জ্যাকেট বা নি-গার্ড/এলবো গার্ড, গ্লাভস এবং সঠিক সাইজের বাইকার বুট পরে রাইড করুন। পিলিয়ন (পেছনের রাইডার) থাকলেও তার জন্যও হেলমেট ও সেফটি গিয়ার নিশ্চিত করুন।
৩. হাইওয়েতে সবসময় নিজের নির্দিষ্ট লেনে থাকুন। বড় গাড়ি বা বাস-ট্রাককে ওভারটেকিং করার সময় হর্ন ও পাসিং লাইটের সঠিক ব্যবহার করুন। অন্ধ বাঁকে বা ওভারটেকিং নিষিদ্ধ জায়গায় ভুলেও ওভারটেক করবেন না।
৪. মোড় বা লেন পরিবর্তনের আগে লুকিং গ্লাসে চোখ রাখুন। সবসময় মনে রাখবেন, বড় বাস-ট্রাকের চালকদের নির্দিষ্ট কিছু ব্লাইন্ড স্পট থাকে, তাই তাদের ঠিক পেছনে বা খুব ঘেঁষে রাইড করবেন না।
৫. স্পিড কন্ট্রোল ও নিরাপদ দূরত্ব: হাইওয়ের গতিসীমা অনেক সময় মানা সম্ভব হয় না তাই ব্লিং করা যে ক্যামেরাগুলো আছে তার দূর থেকে গতি কমিয়ে দিন। সামনের গাড়ির থেকে অন্তত ৩-৪ সেকেন্ডের নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন, যাতে জরুরি প্রয়োজনে ব্রেক কষার পর্যাপ্ত সময় পান।
তাছাড়া বড় গাড়ি যদি এক নাম্বার লাইনে থাকে আপনি দুই নাম্বার লাইনে থাকবেন তাতে রাস্তা ক্লিয়ার পাবেন এবং সেফটি এনসিওর হবে।
৬. স্ট্যামিনা ও বিরতি (Break Time): টানা ২-৩ ঘণ্টা রাইড না করে প্রতি ১-১.৫ ঘণ্টা পর পর অন্তত ১০-১৫ মিনিটের বিরতি নিন। বাইকের ইঞ্জিন এবং আপনার শরীর—দুটোর জন্যই এই কুল-ডাউন পিরিয়ড জরুরি।
মনে রাখবেন আপনি ট্রিপ মারছেন না আপনি আশেপাশের পরিবেশ এনজয় করছেন।
বিরতির সময় সব সময় যেকোনো পাম্পের আশেপাশে দাঁড়াবেন। এতে সেফটি এন শিওর হয়।
৭. রাইডিংয়ের সময় শরীর দ্রুত ডিহাইড্রেটেড হয়ে যায়। বিরতির সময় পর্যাপ্ত পানি ও স্যালাইন পান করুন। অতিরিক্ত ভারী খাবার খেয়ে রাইড করলে ঝিমুনি আসতে পারে, আমি রাইডিং এ সাধারণত পরোটা জাতীয় খাবার খাই।
এতে দুইটা বেনেফিট পাওয়া যায় প্রথমত খুব তাড়াতাড়ি খিদা লাগে না দ্বিতীয়তঃ যেখানে সেখানে বাথরুম চাপে না।
৮. হঠাৎ বৃষ্টি বা বাজে আবহাওয়ার মুখোমুখি হতে পারেন। তাই ভালো মানের রেইনকোট এবং ওয়াটারপ্রুফ ব্যাগ কভার সবসময় বাইকে সাথে রাখুন।
৯. ড্রাইভিং লাইসেন্স, বাইকের ব্ল্যাক বুক, ট্যাক্স টোকেন এবং ফিটনেস সনদের মূল কপি ও ডিজিটাল কপি গুছিয়ে রাখুন। এছাড়া জরুরি যোগাযোগের জন্য এনআইডি এবং ফ্যামিলি মেম্বারদের নম্বর লিখে কাছে রাখুন।
১০. বর্তমান আইন-শৃংখলার যে পরিস্থিতি তাতে, অপরিচিত বা হাইওয়ে রাস্তায় রাতে রাইড করা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। চেষ্টা করুন সূর্য ডোবার আগেই গন্তব্যে পৌঁছে যেতে।
নিরাপদ রাইডিংই একজন অভিজ্ঞ রাইডারের আসল পরিচয়। মনে রাখবেন যত গতি তত ক্ষতি। আপনার রাইড শুভ ও আনন্দদায়ক হোক!
©Ikramul Huda Majumder