14/10/2026
Youtube এ হঠাৎ করেই একটা Shorts আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করে সেদিনকে। মহালয়ার দিন ইডেন গার্ডেন্স এ ড্রোন উড়িয়ে মা দুর্গার মুখ, বেশ ভালো লাগছিল ব্যাপারটা। আর কার কাছে যেন শুনছিলাম Red Road এ খুব সুন্দর সাজানো হয়েছে- ফেসবুকে তার ও কিছু ছবি দেখে খুব ইচ্ছে করছিলো যে একটু রাতের কলকাতা দেখে আসি। কিন্তু সব জায়গাতেই দেখছিলাম, এখনও পর্যন্ত সেরকম কোনো ঠাকুর প্যান্ডেলে ঢোকার ব্যবস্থা শুরু হয়নি, এরই মধ্যে দেখলাম সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার তাদের প্যান্ডেল সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছে, সেখানে যাওয়া যাচ্ছে। ব্যাস আর দেরি করিনি। সপরিবার নিয়ে বেরিয়ে পড়েছিলাম।
গতকাল রাতের কলকাতাটা যেন একটু অন্যরকম ছিল। আলোয় মোড়া রাস্তা, উৎসবের আমেজ, মানুষের চোখেমুখে পুজো দেখার আনন্দ আর শহরজুড়ে ছড়িয়ে থাকা এক অদ্ভুত মায়া। বাতাসে হালকা ঠান্ডার আভাস এবং তাতে গাড়ি করে প্রথম গন্তব্য সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার।
পরিকল্পনা ছিল বেশ গোছানো। প্রথমে সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারের 'বন্দেমাতরম ' থিমের প্যান্ডেল, তারপর রেড রোড হয়ে বাড়ি ফেরা।
যেমন ভাবনা, তেমনই কাজ।
গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম কলকাতার পথে। সঙ্গে বউ-মেয়েদের নিয়ে শুরু হলো আমাদের রাতের প্যান্ডেল Hopping। সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারের সামনে গাড়ি পার্ক করতেই বুঝলাম, লেবুতলা পার্কের পুজোর টানটা এখনও সবার কাছে কতটা গভীর! তখন প্রায় রাত একটা। তবুও মানুষের ঢল, লম্বা লাইন, আর প্রত্যেকের চোখে সেই বহু প্রতীক্ষিত দর্শনের আনন্দ। আমাদেরও প্রায় তিরিশ মিনিট লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হলো।
কিন্তু জানো তো, কিছু কিছু অপেক্ষার শেষে যে প্রাপ্তি থাকে, তা সত্যিই অন্যরকম!
প্যান্ডেলের ভিতরে ঢুকেই যেন মুহূর্তের জন্য চারপাশের সবকিছু ভুলে গেলাম। বন্দেমাতরম—শুধু একটা থিম নয়, যেন একটা ইতিহাস, একটা আবেগ, একটা জাতির আত্মপরিচয়ের গল্প। যে স্বাধীনতাকে আজ আমরা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের স্বাভাবিক অধিকার বলে জানি, সেই স্বাধীনতার পিছনে রয়েছে কত মানুষের আত্মত্যাগ, কত বিপ্লবীর রক্ত, কত মায়ের চোখের জল আর কত পরিবারের না-পাওয়ার ইতিহাস!
আজকের এই আধুনিক জীবন, নিজের মতো করে বাঁচার অধিকার, স্বাধীনভাবে নিজের স্বপ্ন বেছে নেওয়ার সুযোগ—এসবের মূল্য যে কতখানি, তা সম্পূর্ণভাবে অনুভব করাও কঠিন।
প্যান্ডেলের পরিকল্পনা, তার উপস্থাপনা আর প্রতিটি দৃশ্যের মধ্যে লুকিয়ে থাকা ইতিহাস সত্যিই মন ভরিয়ে দিলো আর তার সঙ্গে মায়ের অপরূপ রূপ! থিমের গাম্ভীর্য আর দেবীর সৌন্দর্য যেন একে অপরের পরিপূরক হয়ে উঠেছিল। কিছুক্ষণ শুধু তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছে করছিল। মনে হচ্ছিল, শিল্প যখন আবেগের সঙ্গে মিশে যায়, তখন তা শুধু চোখকে মুগ্ধ করে না, মনেও গভীর ছাপ রেখে যায়।
এই তো আমাদের ঐতিহ্যবাহী কলকাতার পুজো! এখানে একটা প্যান্ডেল দেখতে এসে কখন যে ইতিহাসের পাতায় ডুবে যাই, কখন যে শিল্পের প্রেমে পড়ে যাই, নিজেরাও বুঝতে পারি না।
প্যান্ডেল ঘোরা শেষ করে বাইরে বেরিয়ে দেখি, রাতের শহর তখনও নিজের ছন্দে মেতে রয়েছে। আর আমাদের ছোট্ট মেয়ের তখন একটাই আবদার—আইসক্রিম খেতেই হবে!
অগত্যা, এত রাতেও ছোট্ট মেয়ের আবদারকে গুরুত্ব দিয়ে সবাই মিলে একটা করে Hocco আইসক্রিম নিলাম। আইসক্রিম খেতে খেতেই গাড়ি বের করলাম। এবার গন্তব্য রেড রোড।
সকালের Shorts-এ যে সৌন্দর্যের ঝলক দেখেছিলাম, রাতের অন্ধকারে আলোর সাজে সেই পথকে সামনে থেকে দেখার অপেক্ষা ছিল অনেকক্ষণ ধরেই। বিড়লা প্লানেটোরিয়াম কে বাঁ-হাতে রেখে গাড়ি যখন আমাদের ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের উত্তরের দরজার দিকে এগোচ্ছে, হঠাৎ করে দেখলাম মাথার ওপর যেন আলোর শামিয়ানা টানানো রয়েছে। সেখানেই গাড়ি দাঁড় করিয়ে অনেক্ষন ছবি তুললাম, অপূর্ব! দুপাশে গাছগুলোর মাঝখান থেকে যেভাবে আলোগুলো ছড়িয়ে দিয়েছে তাতে আমার শান্তিনিকেতনের সোনাঝুরি গাছের কথা মনে পড়ছিলো, যেন প্রত্যেকটা গাছ থেকে সোনার অলংকার ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তারপর সেখান থেকে ড্রাইভার বললো, দাদা অনেক প্যান্ডেল তো দেখা হলো না, আজকে চলুন Red Road এর ওখানে গিয়ে দাঁড়ান। তার কথা মতো ফোর্ট উলিয়ামকে বাঁ হাতে রেখে Red Road এর দক্ষিণ দিকের রাস্তাটাতে গিয়ে নামলাম।
ড্রাইভার গাড়িতেই রইলো, গাড়ি পার্ক করে আমরা Red Road এ হাঁটতে শুরু করলাম। এটা আমার জীবনের প্রথম অভিজ্ঞতা। রাতের কলকাতায় ঠাকুর দেখা আমার খুব একটা আগের অভিজ্ঞতার মধ্যে নেই। কিন্তু এবছর প্রথম Red Road -এ যে সাজানো গোছানো,যে শৈল্পিক ছোঁয়া- রাবীন্দ্রিক, আধ্যাত্বিক এবং আমাদের সারা পশ্চিমবঙ্গে দুর্গাপুজো যেভাবে অনুষ্ঠিত হয়। এগোতে এগোতেই দেখলাম আলিপুরদুয়ার, বাঁকুড়া, বীরভুম, তারপর হুগলী - এরকম প্রত্যেকটা জেলার একটা করে স্টেজ বানানো এবং রাস্তাটাকে অপূর্ব সুন্দর সাজে আলোকিত করা। ভালো লাগছিলো যে না আসলে বোধহয় ভুল হয়ে যেত।
দীর্ঘ রাস্তার দু'পাশে ঐতিহ্যের ছোঁয়া, আলোর নিখুঁত বিন্যাস, বাংলার সংস্কৃতিকে মনে করিয়ে দেওয়া সাজসজ্জা আর গোটা পরিবেশজুড়ে এক রাজকীয় আবহ—সব মিলিয়ে রাতের রেড রোড যেন এক জীবন্ত ক্যানভাস। আলো আর ঐতিহ্যের মেলবন্ধনে রাস্তার পরিচিত চেহারাটাও যেন নতুন রূপ পেয়েছে। কোথাও উৎসবের জৌলুস, কোথাও বাঙালিয়ানার গর্ব, আবার কোথাও এমন এক স্নিগ্ধ সৌন্দর্য। রাতের তিলোত্তমা নগরী কলকাতা যেন নিজের ইতিহাস, সংস্কৃতি আর সৌন্দর্যকে সবার সামনে মেলে ধরেছিলো।
আমরা যারা সৌন্দর্যের কাঙাল, তাদের কাছে এমন রাতের আলাদা একটা মানে আছে। সৌন্দর্য আমাদের টানে। কখনও তা মাটির প্রতিমায়, কখনও শিল্পীর নিখুঁত পরিকল্পনায়, কখনও আলোকসজ্জায়, আবার কখনও একটা চেনা রাস্তার নতুন সাজে। সেই টানেই তো এত রাতে বেরিয়ে পড়া, সেই টানেই ভিড় পেরিয়ে প্যান্ডেলে পৌঁছনো, সেই টানেই ক্লান্তি ভুলে আরও একটু পথ এগিয়ে যাওয়া।
কারণ, সুন্দরকে ভালোবাসার কোনও নির্দিষ্ট সময় হয় না। রাত একটা হোক কিংবা ভোরের আলো, রাস্তায় মানুষের ভিড় হোক কিংবা দীর্ঘ পথ পেরিয়ে কোনও শিল্পকর্মের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা—সৌন্দর্য তার নিজের আকর্ষণে আমাদের কাছে টেনে নেবেই।
আমরা যেমন শহরের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হই, তেমনই নিজের বাড়িটাকেও সুন্দর দেখতে ভালোবাসি। দিনের শেষে যে বাড়িতে ফিরে আসি, যেখানে পরিবারের সঙ্গে গল্প জমে, উৎসবের প্রস্তুতি চলে, প্রিয় মানুষদের নিয়ে তৈরি হয় অসংখ্য স্মৃতি—সেই বাড়ির প্রতিটি কোণেও তো একটু সৌন্দর্য, একটু যত্ন আর একটু ভালো লাগা থাকা চাই।
বাড়ি মানে শুধু চারটে দেওয়াল আর একটা ছাদ নয়। বাড়ি হলো আমাদের অনুভূতির জায়গা, আমাদের শান্তির ঠিকানা, আমাদের প্রতিদিনের জীবনের সবচেয়ে আপন ক্যানভাস।
তাই উৎসবের আলোয় কলকাতাকে নতুন করে সাজতে দেখলে নিজের বাড়িটাকেও নতুন করে ভালোবাসতে ইচ্ছে করে। কখনও ছোট্ট একটা পরিবর্তন, কখনও প্রয়োজনীয় কোনও মেরামতি, কখনও বাড়ির কোনও অংশকে আরও সুন্দর ও ব্যবহারযোগ্য করে তোলা—এই ছোট ছোট যত্নেই তো ঘর হয়ে ওঠে আরও আপন।
JamesUncle Home Solution—আপনার বাড়ির প্রয়োজনীয় কাজগুলোকে যত্নের সঙ্গে সম্পূর্ণ করে আপনার আপন ঠিকানাটাকে আরও সুন্দর, আরও আরামদায়ক করে তুলতে পাশে থাকে।
কলকাতার আলোয় ভরা একটা রাত আমাদের শিখিয়ে গেল, সৌন্দর্যকে উপভোগ করতে জানতে হয়, আর নিজের চারপাশকেও সুন্দর করে তুলতে হয় ভালোবাসা দিয়ে।
সৌন্দর্যের টানে বেরিয়ে পড়া, আর ভালোবাসার টানে ঘরে ফেরা—এই নিয়েই তো আমাদের জীবনের সবচেয়ে সুন্দর গল্পগুলো তৈরি হয়। ❤️
JamesUncle Home Solution — আপনার বাড়ির যত্নে, আপনার আপন ঠিকানার পাশে।