কলকাতা বা কোলকাতা (ইংরেজি: Kolkata), (পূর্বনাম: কলিকাতা বা Calcutta), ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী, প্রধান বাণিজ্যকেন্দ্র এবং বৃহত্তম শহর। হুগলী নদীর পূর্ব তীরে অবস্থিত[৬] এই শহরের পৌরএলাকার জনসংখ্যা ৫০ লক্ষের কিছু বেশি। তবে কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী জেলাগুলির অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত বৃহত্তর কলকাতার জনসংখ্যা ১ কোটি ৪০ লক্ষের কাছাকাছি। এই জনসংখ্যার বিচারে কলকাতা ভারতের তৃতীয় বৃহত্তম
শহর ও দ্বিতীয় বৃহত্তম মেট্রোপলিটান বা মহানগরীয় অঞ্চল এবং বিশ্বের অষ্টম বৃহত্তম মহানগর অঞ্চল।[৭] কলকাতা পৌরএলাকার উত্তর দিকে উত্তর চব্বিশ পরগনা, পূর্বে উত্তর ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা এবং দক্ষিণ দিকে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলা অবস্থিত। পশ্চিম দিকে হুগলি নদী এই শহরকে হাওড়া জেলা থেকে বিচ্ছিন্ন করেছে।
১৭৭২ সালে মুর্শিদাবাদ শহর থেকে বাংলার রাজধানী কলকাতায় স্থানান্তরিত করা হয়। ১৯১১ সাল পর্যন্ত কলকাতা শুধুমাত্র বাংলারই নয়, বরং সমগ্র ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী ছিল। ১৯২৩ সালে ক্যালকাটা মিউনিসিপ্যাল অ্যাক্টের অধীনে কলকাতার স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন কর্তৃপক্ষ কলকাতা পৌরসংস্থা স্থাপিত হয়। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের পর কলকাতা নবগঠিত পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের রাজধানী ঘোষিত হয়। এই সময় কলকাতা ছিল আধুনিক ভারতের শিক্ষা, বিজ্ঞান, শিল্প, সংস্কৃতি ও রাজনীতির এক পীঠস্থান। ১৯৫৪ সালের পর থেকে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক অবক্ষয়ের ফলে সেই গৌরব অনেকাংশে খর্ব হয়। তবে ২০০০ সালের পর থেকে এই শহর পুনরায় অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সমৃদ্ধির পথে অগ্রসর হয় এবং সাংস্কৃতিক হৃতগৌরব অনেকাংশেই পুনরুদ্ধার করে। যদিও ভারতের অন্যান্য শহরের মতো কলকাতাতেও নগরায়ণজনিত দারিদ্র্য ও পরিবেশ দূষণ একটি গুরুতর সমস্যা।
কলকাতা শহরের প্রসিদ্ধি এই শহরের বৈপ্লবিক আন্দোলন ও সুদীর্ঘ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জন্য। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন ও পরবর্তীকালে বামপন্থী গণআন্দোলনগুলিতে এই শহর এক বিশেষ ভূমিকা গ্রহণ করেছিল। অন্যদিকে আধুনিক ভারতের প্রধান প্রধান সাংস্কৃতিক আন্দোলনগুলিরও প্রাণকেন্দ্র এই কলকাতা। এই কারণে এই শহরকে ভারতের সাংস্কৃতিক রাজধানী নামে অভিহিত করা হয়।[৮] আবার কলকাতা শহরে বিভিন্ন ভাষা, জাতি ও ধর্মাবলম্বী মানুষদের শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দ্যময় সহাবস্থানের জন্য এই শহরকে আনন্দ নগরী বা সিটি অফ জয় নামেও অভিহিত করা হয়। রাজা রামমোহন রায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, স্বামী বিবেকানন্দ, রোনাল্ড রস, সুভাষচন্দ্র বসু, মাদার তেরেসা, সত্যজিৎ রায়, সত্যেন্দ্রনাথ বসু, সি ভি রামন, অমর্ত্য সেন প্রমুখ বিশ্ববরেণ্য ব্যক্তিত্বের কর্মভূমি কলকাতা মহানগরী তার সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জন্য আজও বিশ্ববাসীর চোখে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত।