22/06/2022
২ বছর এক মাস, ৬০১৩৪ কিলোমিটার। আমার ইলেকট্রিক স্কুটার আরেকটা মাইলস্টোন পেরোলো।
গিয়েছিলাম সোমরা কৈলাস আশ্রমে। আবাসিক আশ্রমিক বালকদের শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার জন্য। এই ৭১ + ৭১ = ১৪১ কিলোমিটার যাতায়াত বেশ ভালো ভাবেই হল। কিছু ছবি দিলাম। ৭১ কিলোমিটার যেতে ইলেকট্রিকাসের সময় লেগেছে ১ ঘন্টা ৩৫ মিনিট। আসতে ১ ঘন্টা ৪৫ মিনিট, তার কারণ হেডউইন্ড ছিল। সর্বোচ্চ স্পিড ছিল ৭২ কিলোমিটার ঘন্টা, গড় রেখেছিলাম ৫৫-৬০ কিলোমিটার প্রতি ঘন্টা।
এবারে আসি একটা পাতি হিসাবনিকেশের কথায় - মানে বিষয়ী লোক তো - সবসময় টাকার হিসাবটা দেখি। মানে এই ৬০১৩৪ কিলোমিটারে আমার সাশ্রয় হয়েছে যে পরিমাণ টাকা সেটা বলি -
মোট বিদ্যুৎ খরচ - ৬০১৩৪ / ৫০ ( প্রতি ইউনিট বিদ্যুতে আমার গাড়ি ৫০ কিলোমিটার চলে। মানে ২০ ওয়াট/কিমি।) = ১২০৩ ইউনিট
প্রতি ইউনিট যদি ৮ টাকা করেও ধরি তাহলে জ্বালানী খরচ হয়েছে - ৮ X ১২০৩ = ৯৬২৪ টাকা বা প্রায় ১০,০০০ টাকা। এই টাকাটার এক পয়সা। আমার লাগে নি কারণ পুরো বিদ্যুৎটা আমি সৌরশক্তির সাহায্যে বানিয়ে নিয়েছি। কিন্তু বেশির ভাগ লোকের লাগবে বলে আমি ধরেই নিচ্ছি এই টাকাটা আমার জ্বালানী খরচ।
দু-বছরের মেনটেন্যান্স খরচা - ৫৮০০ টাকা।
মোট খরচ = ১৫৮০০/-
এটা যদি পেট্রল স্কুটার হতো তাহলে কত খরচ হতো আমার -
জ্বালানী খরচ - ৬০১৩৪ / ৫০ ( প্রতি লিটার ৫০ কিলোমিটার হিসাবে ) = ১২০৩ লিটার
১২০৩ লিটার তেলের দাম - ১২০৩ X ১০০ = ১২০৩০০ টাকা। ১০০ টাকা এইজন্য ধরলাম কারণ ওটা গড় দাম। দু-বছর আগে তেলের দাম ৮৫-৯০ টাকা যেমন ছিল এখন তেমন ১১০-১১৫ টাকা প্রতি লিটার চলছে। অতএব আমি গড় দাম ১০০ টাকা ধরেছি।
মেনটেন্যান্স খরচা = প্রতি ৩০০০ কিলোমিটারে ইঞ্জিন অয়েল চেঞ্জ হিসাবে
৫০০ X ২০ = ১০০০০ টাকা। এছাড়া এয়ার ফিল্টার চেঞ্জ ইত্যাদি নিয়ে আরো ৫০০০ টাকা। মানে মোট ১৫০০০ টাকা।
মানে মোট খরচ হল = ১৩৫৩০০ টাকা।
টায়ার বা ব্রেক শু পাল্টানো দুটো গাড়িতেই সমান সমান লাগে তাই আর সেটা ধরলাম না।
আমি মোট খরচা বাঁচিয়েছি = ১,২০,০০০ টাকা। যেটা আমার গাড়ির দামের থেকে ৩০,০০০ টাকা বেশি। গাড়িটা এখন ফ্রি, রিসেল ভ্যালু কিছু এলো কি না এলো তাই নিয়ে কোনো মাথাব্যথা আমার নেই। বা ওই টাকায় আমার গাড়ির তিনটে লিথিয়াম ব্যাটারী হয়ে যাবে। আমার একবারও ব্যাটারী পাল্টতে হয় নি। ব্যাটারী ঠিকঠাক চালালে ৮০,০০০ থেকে ৯০,০০০ কিলোমিটার ভালভাবে চলে। মানে আর একবছরে আরও ৬০,০০০ টাকা আমার পকেটে ঢুকবে। আর যে পরিমাণ দূষণ আমি বাতাসে যোগ করিনি সেটা ধরলাম না। কারণ অনেকেই সেক্ষেত্রে প্রশ্ন তুলবেন একটা বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরী করতে পেট্রল গাড়ির থেকে বেশি দূষণ হয়। অতএব আমি যে পরিমাণ দূষণ বাঁচিয়েছি সেটা না-হয় ওখান থেকেই কমপেনসেট হয়ে গেল। এটা দুবছরের হিসাব দিলাম। গাড়িটা আশা করে আরো কয়েকবছর চলবে। চলা মানেই লক্ষীলাভ।
এর পরেও কিছু লোক খুব সিরিয়াস মুখ করে বলবেন - একদম কিনবেন না ইলেকটিক স্কুটার। তিনবছর বাদে যখন ব্যাটারী পাল্টবেন না, তখন খরচা সেই একই দাঁড়াবে। এনাদের জন্য আমার পক্ষ থেকে স্ট্যান্ডিং ওভেশন রইলো।