04/10/2024
বাবা আয়, বাবা আয় বলে জানালার পাশে দাঁড়িয়ে অধীর আগ্রহে আমার জন্য অপেক্ষা করত আমার ছেলে।
আমার ছেলে, ওমর ফারুক, তখন তার বয়স ছিল ছয় মাস। এই বয়সে বাবার স্নেহ, ভালোবাসার প্রয়োজন ছিল সবচেয়ে বেশি, কিন্তু আমার ছেলের সাথে আমি দিনে সর্বোচ্চ ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট সময় কাটাতে পারতাম।
নারায়ণগঞ্জ থেকে টঙ্গী পৌঁছাতে তিন থেকে পাঁচ ঘণ্টা সময় লাগত। যতক্ষণ আমি না আসতাম, ও আমার জন্য অপেক্ষা করত।
পথে জ্যামে বসে থেকে মনে হতো, কতটা অমূল্য সময় আমি হারাচ্ছি। আমার ছেলে জানালার পাশে দাঁড়িয়ে আমার জন্য অপেক্ষা করত, আর আমি সময়ের সাথে যেন এক অসম যুদ্ধে লিপ্ত ছিলাম।
এই সময়টা অনেক কষ্ট দিত। ভাবতাম, যদি একটু আগে পৌঁছাতে পারতাম, তাহলে ছেলের সাথে আরও বেশি সময় কাটানো যেত।
যখন জ্যামে বসে থাকতাম, মোটরসাইকেলগুলো সাইড দিয়ে বেরিয়ে যেত। তখন মনে হতো, “ইশ, যদি একটা মোটরসাইকেল কিনতে পারতাম!”
সাত বছর পর মোটরসাইকেল কিনলাম।
সুজুকি ইন্ট্রুডার—আমার প্রিয় মোটরসাইকেল। চালানোতে ভীষণ আরামদায়ক। বাইকটির একটা রাজকীয় ভাব আছে। যখন রাস্তা দিয়ে চলতাম, সবাই তাকিয়ে থাকত।
১৫৫ সিসির এই বাইকের সর্বোচ্চ শক্তি ১৪.৬ হর্সপাওয়ার এবং ৮০০০ আরপিএম।
সামনের চাকায় ABS ব্রেকিং সিস্টেম থাকায় আমি নিশ্চিত থাকতাম। হঠাৎ ব্রেক করার সময় বাইকের এক্সিডেন্টের ঝুঁকি কম থাকত, অথচ অল্প জায়গার মধ্যে সহজে ব্রেক করা যেত।
শুরুর দিকে মাইলেজ পেতাম লিটারে ৪০ কিলোমিটার, কিন্তু এখন ৩৫ কিলোমিটারের বেশি পাওয়া যায় না।
বাইকটির মেইনটেন্যান্স খরচও খুব বেশি নয়। নিয়মিত ইঞ্জিন অয়েল পরিবর্তন এবং সাধারণ সার্ভিসিং করলেই যথেষ্ট।
তবে বাইকটির কিছু নেতিবাচক দিকও আছে।
পেছনের ডিস্ক ব্রেক ব্যবহার করলে মাঝে মাঝে বাইক স্কিড করে।
বাইকটির মাসকুলার ডিজাইন দেখতে খুব সুন্দর হলেও এটি ভারী। ফলে ট্রাফিক জ্যামে চালাতে কিছুটা অসুবিধা হয়।
পিলিয়ন সিটটি ছোট, একজনের বেশি বসানো যায় না, দুইজন বসানোর চিন্তাই করা যায় না।
সব মিলিয়ে, সুজুকি ইন্ট্রুডার একটি চমৎকার বাইক। দেখতে যেমন আকর্ষণীয়, চালানোও তেমন আরামদায়ক। জ্বালানির দিক থেকেও সাশ্রয়ী এবং মেইনটেন্যান্স খরচ কম হওয়ায় এটি অনেকেরই পছন্দের বাইক। ক্রুজার বাইক যারা পছন্দ করে, তারা প্রায়ই এই বাইকটি ব্যবহার করে।