19/03/2020
প্রিয় ভাই-বোন ও আত্মীয়স্বজন, আল্লাহ্র ওপর ভরসা করে অন্তত ১৪ দিনের জন্য নিজের বাড়ী/বাসায় থাকুন (নিজের বাড়ী/ভাড়া বাসা/যেকোন বাসা)। পরিবারের কেউ যদি জ্বর/স্বর্দি/কাশিতে ভুগে তাহলে নিজের বাড়ীর/বাসার/ঘরের মধ্যেই পরিবার থেকে আলাদা থাকুন। এক্ষেত্রে সবাই সরকারের দেয়া নিয়ম কানুন মেনে চলুন দয়া করে।
করোনা ভাইরাস খুব ভয়ংকর ভাইরাস। এর কাছে দয়া মায়া মমতা ভালোবাসা কিছুই নাই। করোনা চেনেনা কে কোন দল করে, কে ধনী আর কে গরীব, কে মুসলমান আর কে হিন্দু, কে এমপি আর কে মণত্রী।
সরকারের আইইডিসিআর চেস্টা করছে, আমাদের উচিত তাদের দেয়া নিয়মগুলো পালন করা। আর জমায়েত করে আল্লাহ্র কাছে দোয়া না করে বাসায় বসে করলেও আল্লাহ্ শুনবেন ইনশাআল্লাহ।
দেশের বড় থেকে ছোট যেসকল নেতাকর্মী আছেন, তাদের উচিত হবে এই ১৪ দিন লোকসমাগম ও নেতাকর্মী সাথে নিয়ে না চলা। এর পরিবর্তে, পাড়ায় মহল্লায় শহরে গ্রামে যেখানে পারেন স্বেচ্ছাসেবক গ্রুপ তৈরি করেন এবং জনগণকে সতর্ক ও সহায়তা করেন। অবশ্যই আপনারা নিজেরা মাস্ক পরবেন ও নিয়ম মেনে চলবেন। যদি সম্ভব হয় নিজের পকেটের টাকা খরচ করে গরীব মানুষ যারা আছেন তাদের সাহায্য করবেন। আমি আবারো বলছি, সরকারের একার পক্ষে এই করোনা মোকাবেলা কঠিন হবে যদি আমরা ও আপনারা না এগিয়ে আসি।
আমার বিশ্বাস, করোনা প্রতিরোধে জনপ্রতিনিধিরা, শুধু সরকারের টাকা বরাদ্দের দিকে না চেয়ে নিজেরা কিছু একটা করছেন। যদি না করে থাকেন এক্ষুনি শুরু করেন। লোকমুখে শুনি যে আপনারা এখনো গরীব হয়ে যাননি। বিশ্বাস করেন, প্রাণপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী আছেন বলেই আপনারা আছেন, দেশ ভালো আছে। তাই আপনারা যেমন নিজেদের সবজান্তা ভাববেন না, আবার চুপচাপ বসে থাকবেন না, এই বিপদে জণগনের জন্য কি করা যায় বুদ্ধি বের করেন।
আমার মনে হয়, দেশের যেসব হাস্পাতালে অপারেশন এর রুগীরা আছেন, যদি তাদের এই অপারেশন 14/20 দিনের জন্য পিছিয়ে দিলে বা আগে করে নিলে সমস্যা না হয় তাহলে তাদেরকে ভালোমতো বুঝিয়ে বাসায় পাঠিয়ে দিয়ে হাস্পাতালে করোনার জন্য আলাভাবে ইউনিট করা যেতে পারে। অন্যান্য রুগীর ক্ষেত্রে একই নিয়ম হতে পারে। এখন যে সময় আছে এর মধ্যে হাস্পাতালে যদি সম্ভব হয় CT-Scan মেশিন, মাস্ক, PPE, RT reagent সহ RT-PCR মেশিন সরবরাহ করা, ল্যাব এর সেফটি নিশ্চিত করার জন্য চায়নিজ এক্সপার্ট এর সাথে যোগাযোগ করা ইত্যাদি । RT PCR, CT scan মেশিন কেনা খুব সহজ। এক্ষেত্রে সরকারের উচিত, দেশের এই ১০ বছরে ফুলে ফেপে ওঠা ব্যবসায়ী ও অন্যান্য লোকেদের কঠোর চাপ দিয়ে তাদেরকে এসকল মেশিন কিনে দিতে বাধ্য করা।
ঢাকা থেকে আসা বা ঢাকা অভিমুখী যেসব যাত্রী বাস ট্রেন বিমানে যাতায়াত করছেন, সেসকল শহর বা কেন্দ্রে স্থানীয় স্বাস্থ্য প্রশাসন একটি করে চেক পোস্ট করতে পারেন এবং যাত্রীদের জ্বর কাশির লক্ষন পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় সেবা দিতে পারেন।
খবরে সম্প্রতি প্রকাশ চায়না ডাক্তারদের জন্য PPE সহ অন্যান্য সামগ্রী পাঠাচ্ছেন। আসা মাত্রই যেন সেগুলো সারাদেশব্যপী দ্রুত এবং অতি ক্ষিপ্রতার সাথে বণ্টন করা হয়। লোকমুখে শুনেছি স্বাস্থ্য মণত্রনালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নাকি টাকা লুটপাটের জায়গা। তো আল্লাহ্র দোহায় লাগে, এই করোনার মধ্যে আর লুটপাট কইরেন না। কারন, করোনা ভাইরাস আপনাদেরকেও ছাড় দেবেনা। এটা খুব ই ভয়ংকর। এক কাজ করেন, এই ১৪ দিনের মধে্য আল্লাহ্র কাছে তওবা করে আপনাদের লুটপাটের টাকাটা সরকারের কাছে ফেরত দিয়ে এই দূর্দিনে সরকারের পাশে দাড়ান। ইচ্ছে হইলে পরে আবার খাইয়েন (নাউযুবিল্লাহ)।
আমার মনে হয়, করোনার বিস্তার “local to community” পর্যন্ত অপেক্ষায় না থেকে কিছু কিছু জিনিস যেমন, ইমার্জেন্সী ছাড়া দূরপাল্লার বাস, ট্রেন চলাচল, লঞ্চ সহ লোকাল বড় যানবাহন এই ১৪ দিন বন্ধ করে দেয়া।
আমার মনে হয় মেডিকেল কোর প্রস্তুত রাখার সময় হয়েছে।
আরো অনেক আছে, লিখবো কত! ভাইসকল, আসুন নিজেরা নিয়ম কানুন মেনে চলি, সরকারের ত্রুটি না ধরে নিজের ত্রুটিগুলো সংশোধন করি।
সবশেষে আমরা সকলেই সরকারের দেয়া সকল নিয়ম মেনে চলি এবং গুজবে কান না দেই।
আল্লাহ্ যেন সবাইকে হেফাযত করেন। আমিন।
বি: দ্র: এই পোস্টে কেউ ছিদ্র খুজবেন না।