08/03/2026
পেট্রোল দেশের খনি থেকে উৎপাদন হয়
প্যানিক বায়িং থেকে বিরত থাকুন!
আপনি কি কখনো শুনেছেন বাংলাদেশ পেট্রল বা অকটেন বাংলাদেশ এ টেন্ডার/ দরপত্র আহবান হয়েছে??? উত্তর হল না।
বাংলাদেশে ব্যবহৃত পেট্রোলের প্রায় পুরোটাই এবং অকটেনের সিংহভাগ দেশে উৎপাদিত হয়। দেশীয় গ্যাস খনির উপজাত বা কনডেনসেট থেকে এই পেট্রোল তৈরি হয়। আমাদের চাহিদার তুলনায় কনডেনসেট উৎপাদন অনেক বেশি। দেশের খনি থেকে যে পরিমাণ কনডেনেসেট আসে, তা দিয়ে তৈরি সবটুকু পেট্রোল আমাদের প্রয়োজনও হয় না। ঠিক এই কারণে অতীতে অতিরিক্ত কনডেনসেট পুড়িয়ে ফেলারও ইতিহাস আছে। কয়েকবার এই পেট্রোল রপ্তানির চেষ্টা করা হলেও মানগত কারণে তা সম্ভব হয়নি।
অকটেন কী?
অকটেন আসলে কোনো একক উপাদান নয়, এটি জ্বালানির একটি মানদণ্ড। কোনো জ্বালানিতে যত বেশি আইসো-অকটেন থাকে, তার মান তত উন্নত হয়। জ্বালানিতে যদি ৯৫% বা তার বেশি অকটেন রেটিং থাকে, বাংলাদেশে তাকে সাধারণত 'অকটেন' (RON 95) নামে বাজারজাত করা হয়। দেশে যেটিকে 'পেট্রোল' বলা হয় তার অকটেন নম্বর সাধারণত ৮০ থেকে ৮৭ এর মধ্যে থাকে।
বাংলাদেশে অকটেন হিসেবে যা বিক্রি করা হয়, সেগুলোর রেটিং সাধারণত ৮৫ থেকে ৮৮-এর মধ্যে থাকে। এই মানোন্নয়নের জন্য বিদেশ থেকে 'অকটেন বুস্টার' কিনে আনা হয় এবং দেশীয় কনডেনসেট থেকে উৎপাদিত তেলের সাথে মেশানো হয়।
প্যানিক বায়িং করবেন না
ভাই ও বোনেরা, দেশে উৎপাদিত পেট্রোল নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। যে জিনিস আমরা নিজেরাই উৎপাদন করি, তা নিয়ে আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত কেনাকাটা বা 'প্যানিক বায়িং' করবেন না। প্যানিক বায়িং করলে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়, যা সাধারণ বিষয়।
কারা কনডেনসেট থেকে পেট্রোল বানায়?
সরকারি প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন রিফাইনারি (ইআরএল) কনডেনসেট থেকে পেট্রোল বানায়। এছাড়া দেশে বেশ কয়েকটি বেসরকারি রিফাইনারি আছে যারা কনডেনসেট থেকে পেট্রোল, অকটেনসহ প্রায় ৪০টি সলভেন্ট (যেমন: তারপিন, রঙের কাঁচামাল ইত্যাদি) তৈরি করে। অনেক সময় কিছু প্রতিষ্ঠান কনডেনসেট সঠিক পরিশোধন না করেই সরাসরি বিক্রি করে দেয়, যা 'বাংলা পেট্রোল' নামে পরিচিত—এগুলোর দাম কম কিন্তু মান অত্যন্ত খারাপ।
বেসরকারি রিফাইনারি ও সক্ষমতা
দেশে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হলো:
১. সুপার রিফাইনারি লিমিটেড
২. পিএইচপি পেট্রো রিফাইনারি
৩. একুয়া মিনারেল টার্পেনটাইন রিফাইনারি
৪. সিজেডকে রিফাইনারি
৫. জেবি রিফাইনারি
৬. গোল্ডেন কনডেনসেট অয়েল রিফাইনারি ইত্যাদি।
এদের সম্মিলিত উৎপাদন ক্ষমতা বছরে প্রায় ১৬ লাখ টন। অথচ আমাদের বার্ষিক চাহিদা পেট্রোল ও অকটেন মিলিয়ে বড়জোর ৮ থেকে সাড়ে ৮ লাখ টন। এছাড়া সরকারি কোম্পানি RPGCL একটি বড় অংশ কনডেনসেট হ্যান্ডলিং করে। সুতরাং ভয়ের কিছু নেই, প্যানিক বায়িং থেকে বিরত থাকুন।
বিশেষ নোট ডিজেলের ব্যাপারে: বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী পাইপলাইনের সক্ষমতা ১০ লাখ টন ডিজেল যা উত্তরের ৮ জেলায় সরবরাহ করা হয়। এই তেল ভারতের শিলিগুড়ির নুমালি গড় থেকে আসে।
পাশাপাশি স্পট মারকেট ও পূর্ববর্তী জিটুজি চুক্তির আওতায় কাতার থেকে এলএনজি ও ভিন্ন মাধ্যম থেকে এলপিজি এসে পৌছাচ্ছে।
এতো ভয় পাবার কিছু নেই। দরকার বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত এবং শক্ত হাতে হাল ধরা।
FK Filling Station
FK FillingStation