14/01/2021
পর্ব-১
আমাদের দেশে হাইব্রিড গাড়ি ঢোকা শুরু হয়েছে বেশ আগে নয়,কিন্তু এর মধ্যেই এটি আমাদের দেশে বহুল জনপ্রিয় এবং বর্তমানে আমাদের দেশে ইম্পোর্ট হওয়া গাড়িগুলোর একটা বিরাট অংশ দখল করে নিয়েছে।আজকে আলোচনা হবে হাইব্রিড গাড়ির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে।
# হাইব্রিড গাড়ির সূচনা ও আমাদের দেশে হাইব্রিড কারঃ
হাইব্রিড আমাদের দেশে তূলনামুলক নতুন হলেও এটি কিন্তু মোটামুটি অনেক আগের টেকনোলোজি।১৮৯৯ সালে ফার্দিন্যান্ড পোর্শা প্রথম হাইব্রিড গাড়ির ধারণা দেন যাকে লোনার পোর্শে মিক্সটে বলা হতো।কিন্তু তখন উন্নতমানের ব্যাটারি ও ইলেক্ট্রিক মোটর ছিলো না বলে,তা জনপ্রিয় হয়ে ওঠেনি।১৯৬০ এর দশকে আমেরিকার গভর্মেন্ট এয়ার পলিউশন কমানোর জন্য হাইব্রিড গাড়ির প্রতি সবাইকে মনোযোগ দেওয়ার কথা বললে সারা বিশ্বে সব ম্যানুফ্রাকচার এর হাইব্রিড গাড়ির দিকে চোখ যায়।হাইব্রিড গাড়ির বিপ্লব শুরু হয় মূলত ৯০ এর দশকে।তখন টয়োটা লঞ্চ করে তাদের মোস্ট এফিসিয়েন্ট হাইব্রিড কার প্রিয়াস,১৯৯৭ সালে। টয়োটাকে ফলো করে হোন্ডা লঞ্চ করে তাদের ইনসাইট হাইব্রিড,১৯৯৯ সালে।তখনকার এই হাইব্রিড গাড়িগুলো তাদের ফিউল এফিসিয়েন্সি এর জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।২০০৩ সালে আমাদের দেশে আনা হয় ৩০ টির মতো হাইব্রিড কার,কিন্তু আফটার সেলস সার্ভিস এর অভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো হাইব্রিড গাড়ির ইম্পোর্ট।এইতো কয়েকবছর আগেই আমাদের দেশে হাইব্রিড গাড়ির ট্যাক্স কমানোর পরেই ইম্পোর্টার রা আনতে থাকেন প্রচুর হাইব্রিড কার,দেশেই গড়ে ওঠে হাইব্রিড গাড়ির মানসম্মত ওয়ার্কশপ।
# হাইব্রিড গাড়ি কিভাবে কাজ করেঃ
হাইব্রিড গাড়ির কাজের ব্যাপারে ডেপথ এ যাওয়ার আগে প্রিন্সিপাল গুলো জানা প্রয়োজন।হাইব্রীড গাড়িতে নিকেল মেটাল অথবা লিথিয়াম আয়ন হাইব্রিড ব্যাটারি থাকে যা ইঞ্জিনের পরিত্যক্ত কর্মশক্তি ও রিজেনারেটিভ ব্রেকিং এর মাধ্যমে চার্জ হয়। রিজেনারেটিভ ব্রেকিং এ ব্রেক করার পর চাকার ফ্রিকশন থেকে যে তাপশক্তি উৎপন্ন হয় তার মোটামুটি ৪০℅ শক্তিকে স্পেশাল মোটরকে উল্টা ডিরেকশনে ঘোরানোর মাধ্যমে ইলেক্ট্রিকাল এমপাথপাটিক এম্পেল এনার্জি হিসাবে ব্যাটারিতে জমা করে।অন্যদিকে ইঞ্জিনের পরিত্যক্ত কর্মশক্তিকে জেনারেটর ইলেক্ট্রিক এনার্জিতে কনভার্ট করে ব্যাটারিকে চার্জ করে।হাইব্রিড গাড়ি মূলত ৩ টি মোড এ চলে।একটিতে ইঞ্জিন শুধু চলে ব্যাটারি চার্জ হয়,আরেকটিতে ব্যাটারি শুধু চলে ইঞ্জিন বন্ধ থাকে (Ev Mode), অন্যটিতে ব্যাটারি ও ইঞ্জিন কম্বাইন্ডলি পাওয়ার দিয়ে গাড়িকে চালায়।
হাইব্রিড গাড়িকে মোট ৬ ভাগে ভাগ করা যায়।এগুলো হলো- (১) সিরিজ হাইব্রিড (২) প্যারালাল হাইব্রিড (৩) সিরিজ প্যারালাল হাইব্রিড (৪) মাইল্ড হাইব্রিড (৫) মাইক্রো হাইব্রিড ও (৬) প্লাগ ইন হাইব্রিড।
সিরিজ হাইব্রিডে ইঞ্জিনের সাথে লাগানো থাকে জেনারেটর,জেনারেটর এর সাথে লাগানো থাকে কন্ট্রোলার ডিভাইস,কন্ট্রোলার ডিভাইস এর সাথে সংযুক্ত থাকে হাইব্রিড ব্যাটারি এবং একটি মোটর যা এক্সেলের ফাইনাল ড্রাইভের সাথে যুক্ত থাকে।
সিরিজ হাইব্রিডে EV (Electronic Vehicle) মোড এ ব্যাটারি কন্ট্রোলার এর মাধ্যমে ইঞ্জিনের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে মোটরকে ঘোরায় যা এক্সেলের ফাইনাল ড্রাইভকে ঘোরানোর মাধ্যমে গাড়িকে চালায়।ইঞ্জিন চালু হলে এর সাথে লেগে থাকা জেনারেটর ইঞ্জিনের পরিত্যক্ত শক্তিকে ইলেক্ট্রিক এনার্জিতে কনভার্ট করে যা হাইব্রিড ব্যাটারিকে চার্জ করে (উদাহরণ -Fisker Karma)।অন্যদিকে প্যারালাল হাইব্রিডে ইলেক্ট্রিক মোটরই জেনারেটর হিসাবে কাজ করে এবং প্যারালাল হাইব্রিডে ইঞ্জিন সরাসরি ট্রান্সমিশনের মাধ্যমে ড্রাইভ ট্রেইনের সাথে যুক্ত থাকে,কিন্তু আমরা দেখেছি সিরিজ হাইব্রিডে ইঞ্জিন সরাসরি চাকায় পাওয়ার দেয় না,এতে তাকে ইনভার্টার হয়ে ফাইনাল ড্রাইভে যেতে হয়।অর্থাৎ প্যারালাল হাইব্রিডে Ev মোডে ব্যাটারি ট্রান্সমিশনের মাধ্যমে চাকায় পাওয়ার দেয়,অন্যদিকে ইঞ্জিন চালু থাকলে পাওয়ার ইঞ্জিন থেকে সাধারণ গাড়ির মতোই ট্রান্সমিশনের মাধ্যমে গাড়িকে চালায়,আর এর সাথে লেগে থাকা জেনারেটর ব্যাটারি চার্জ করে(উদাহরণ-আমাদের দেশের বেশিরভাগ হাইব্রিড কার- এক্সিও,প্রিয়াস,আকুয়া,এক্স ট্রেইল,ভেজেল,নোয়াহ)।সিরিজ প্যারালাল হাইব্রীড সিরিজ ও প্যারালাল হাইব্রিডের সমন্বিত একটি রূপ।অন্যদিকে মাইল্ড হাইব্রিডে শুধুমাত্র রিজেনারেটিভ ব্রেকিং এর মাধ্যমে ব্যাটারি চার্জ হয় পাশাপাশি যা গাড়ি চালু করতে স্টার্টার মোটরকে পাওয়ার দেয়। মাইক্রো হাইব্রিডকে মূলত হাইব্রিড গাড়ি বলা যায় না,কারণ এই গাড়িগুলোতে রিজেনারেটিভ ব্রেকিং এর মাধ্যমে একটি স্পেশাল ব্যাটারি চার্জ হয় যা গাড়িতে পাওয়ার দেয় শুধুমাত্র গাড়ির পাওয়ার বাড়ানোর জন্য। অন্যদিকে প্লাগ ইন হাইব্রিড এ আলাদাভাবে হাইব্রিড ব্যাটারিকে চার্জ দিয়ে তারপর অনেক্ষণ তা Ev মোডে চালানো যায়। (উদাহরণ -Prius PHv,Outlander PHv).
অন্যদিকে হাইব্রিড গাড়ির এই জটিল সিস্টেম এর কোনটি কখন কাজ করবে তা নির্ধারণ করে PCU (POWER CONTROL UNIT).অনেকেই বলে "হাইব্রিড গাড়ির ব্যাটারি ৪০ kph এর পরে চলে না,এটা নেহাত ভুল কথা- বিবিসি"