19/10/2019
বিয়ে প্রসঙ্গে যা না বললেই নয় ...
পাত্র বা পাত্রী কেন পাই না আমরা?
আল্লাহর রাসূল সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম ১১টা বিয়ে করেছেন। তার একটার মধ্যেও তিনি 'পারফেক্ট' খুঁজেননি। খুঁজেছেন মানবতা। নিজের সুখটা নিয়ে ভাবেননি, ভেবেছেন কোনো নারীর অসহায়ত্বের কথা। যার কারণে আয়শা রাঃ ছাড়া তার সকল স্ত্রীই ছিলেন বিধবা!.. উমর রাঃ মেয়ে হাফসাহ রাঃ। হিজরতের ১৮ বছর আগে তার জন্ম। বিয়ে হয় খুনাইস রাঃ এর সাথে। বদরযুদ্ধে তিনি আহত হয়ে পরে শাহাদত বরণ করেন। মেয়ে এখন বিধবা। বিষন্ন, মনমরা! উমর রাঃ গেলেন উসমান রাঃ এর কাছে। মেয়ের জন্য বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে। উসমান রাঃ একদিনের সময় নিলেন। পরদিন বললেন, ''এখন আমার পক্ষে বিয়ে করা সম্ভব নয়''। গেলেন আবু বকর রাঃ এর কাছে। তিনি তার প্রস্তাবে কোনো কথাই বললেন না। এতে উমর রাঃ আরো বেশি মর্মাহত হোন। এই যখন উমর রাঃ এর অবস্থা, তখন রসূলে আরাবী সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিয়ের প্রস্তাব দিলেন।.. উম্মে সালামাহ রাঃ। পরিবার-পরিজন ও সহায় সম্পদ ছেড়ে মদিনায় হিজরত করেছেন। এর দেড় বছরের মাথায় বদরযুদ্ধে তাঁর স্বামী শহীদ হোন। রেখে যান চার চারটি নাবালক সন্তান! চারদিক থেকে বিয়ের প্রস্তাব আসে, কিন্তু শোকে কাতর উম্মে সালামাহ সব ফিরিয়ে দেন এই বলে, "তোমরা কেউ আমার আগের স্বামীর মত হতে পারবা না। তার ব্যবহারের তুলনা হয় না। ফলে তোমাদের সাথে দাম্পত্য সুখের হবে না"! এদিকে তার সংসার চলে না। শোকও কাটে না। মুনাজাত আর চোখের পানিই যেন তার শান্তনা। রসূল
সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর দয়া হলো। তিনি বিয়ের প্রস্তাব পাঠালেন।.. উম্মে হাবীবা রাঃ। মক্কার সর্দার আবু সুফিয়ানের মেয়ে।
স্বামী উবাইদুল্লাহর সাথে হিজরত করেন আবসিনিয়ায়,
যা মক্কা হতে শতশত মাইল দূরে। তাদের একটি মেয়ে
সন্তানও ছিলো। হঠাৎ একদিন শুনেন তার প্রিয় স্বামীটা
মুরতাদ হয়ে গেছে! অচিন দেশ, অচেনা মানুষ, স্বামী
হারানো ও স্বজন-বিচ্ছিন্ন এমন একটি মেয়েকে হেল্প
করা কতটা জরুরি ছিলো, তা বিবেকবান মাত্রই বুঝবেন। রসূল সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিয়ে করে তাকে সেই সান্ত্বনা দিলেন। যদিও তাদের মিলন হয়েছে আরো বহু বছর পরে।.. যয়নব বিনতে জাহাশ রাঃ। রসূলের ফুফাতো বোন। নবীজির সিদ্ধান্তে বিয়ে হয় পালকপুত্র যায়েদ বিন হারিসের সাথে। কিন্তু বনাবনি না হওয়ায় সংসার টিকেনি বেশিদিন। তালাকপ্রাপ্তা যয়নব এখন একলা। সঙ্গিহীনা। রসূল সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম ভাবলেন আমার কথামত বিয়ে করার পর মেয়েটার বিয়ে টিকলো না! আহহা, এখন কি হবে? ওহী এসেছিল যে আল্লাহই বিয়ে দিয়ে দিয়েছেন।। পালকপুত্র সে যুগে আপনপুত্রের মতই ছিলো। এই বিয়ের কারণে গোটা আরবে শোর উঠে, "ছিহ! মুহাম্মাদ তার পুত্রবধূকে বিয়ে করেছে"! তথাপি রসূল সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম সে নিন্দা তোয়াক্কা করেননি। একজন তালাকপ্রাপ্তাকে সাহায্য করেছেন।
আর কত বলবো? এই কয়টা ঘটনাই কি যথেষ্ট নয়? দেখুন তো আমাদের নবী বিয়ে কেন করতেন? পারফেক্ট একটা জীবনসঙ্গী পাওয়ার জন্য, না কি কাউকে সাহায্য করার জন্য? এতে করে রসূলের সংসারে কি সুখ আসেনি?
আহ! আইশা রাঃ বলতেন, "আল্লাহর কসম! রসূলের ঘরটায় কিচ্ছু ছিলো না। কিন্তু সুখ আর ভালোবাসায় পুরো বাড়ির প্রতিটা কোণা পরিপূর্ণ ছিলো।"
কেউ কি দেখাতে পারবেন রসুলের এই 'আনপারফেক্ট' বিবাহের কারণে তালাকের কোনো ঘটনা ঘটেছে!
মেয়ে বা পাত্রীপক্ষরা কী ভাবছে আমি জানি না, তবে
তাদের সামনে একটি ঘটনা পেশ করছি মাত্র। ফাতেমা
বিনতে কায়েস রাঃ। রূপে-গুণে ষোলকলা পূর্ণ। আরবে
অনিন্দ্য সুন্দরীরাও তাকে নিয়ে ইর্ষা করতো। যখন তার
তালাক হয়, তখন মক্কার সুপ্রতিষ্ঠত হযরত মুয়াবিয়া ও আবু জাহাম প্রমুখ বিয়ের প্রস্তাব পাঠান। রসূল সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন, "ফাতেমা! তুমি উসামাকে বিয়ে করো। আল্লাহ বরকত দিবেন।"
উসামা রাঃ ছিলেন কালো। দরিদ্র। আযাদকৃত গোলামের পুত্র! তবু তিনি মেনে নিলেন। এই উম্মে কায়েস পরবর্তীতে গর্বভরে বলতেন, "আল্লাহর শপথ! পুরো মদীনায় আমার মত সুখী, আমার ঘরের মত বরকতময় ঘর আর আছে কি না আমি জানি না"!
আল্লাহু আকবার!!
আজ কি আমাদের সমাজে কালো, খাটো, দরিদ্র, বিধবা,
ধর্ষিতা, অসহায় ও নওমুসলিমা মেয়ে নেই? এমন মেয়ে কি নেই, যার ফ্যামিলি দারিদ্রের কষাঘাতে ধুকেধুকে
মরছে? নেই কি এমন মা কিংবা বোন, যে তার ইয়াতিম
শিশুদের বুকে জড়িয়ে চোখের জলে বালিশ ভিজাচ্ছে?
আছে। হাফসাহ, যয়নব, উম্মে সালামা-হাবিবা অনেক
আছে। কিন্তু সত্যি বলতে আমাদের সমাজে সেই 'মুহাম্মাদ
সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম' আর নেই ... এ সমাজে অনেক উসামা আছে, কিন্তু ফাতিমা বিনতে কায়েস নেই ...
"তোমরা জমিনবাসীর উপর দয়া করো, তাহলে আসমানের অধিপতি তোমাদের উপর দয়া করবেন"। (তিরমিযি-১৯২৪)
এখনকার ছেলেরা পাত্রী খুঁজে পায় না। মেয়ের বাবাও
পায় না 'উপযুক্ত' পাত্র। কারণ কি জানেন? সবাই এখন
'পারফেক্ট' চায়। সাহায্যের মানসিকতা এখন কারো
নাই। হ্যা, বিয়ের অন্যতম একটি দিক হলো 'কুফু' মিলানো। কুফু এর শাব্দিক অর্থ সমকক্ষ হওয়া। তবে ইসলামি শরীয়ায়
'কুফু' বলে ছেলে মেয়ের তুলনায় হাইয়ার থাকা। এবার মেয়ে যত নীচুই হোক। কেননা মেয়েরা তার চেয়ে নীচু কারো
সাথে জীবনযাপনে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে না। কিন্তু আমরা
কুফু বলতে বুঝি "পারফেক্ট পারফেক্ট"!
খুব জানতে ইচ্ছে করে, এই "পারফেক্ট পারফেক্ট" দম্পতিগুলো কতটা সুখে আছে?