27/10/2024
আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতোআনির
রাজিম, বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম।
আমার পরিচয় আমি একজন প্রফেশনাল ড্রাইভার, আসলে আজকে আমি এখানে কথা বলছি যানজট নিরসনে আমরা চালকরা কি ভূমিকা রাখতে পারি, আর সেই সাথে আমাদের জানা উচিত যে আমাদের দেশের চালক আমরা কিধরনের সমস্যা ফেস করে দিনের পর দিন সেবা দিয়ে যাচ্ছি,আমরা সকলেই জানি চালকের পেশা একটি সেবামূলক পেশা,এবং কেউ স্বীকার করুক বা না করুক একটা দেশের জন্য এই চালকদের ভূমিকা অনেক বেশি,আবার যদি শ্রম আইন এর দিকে লক্ষ্য করি তাহলে দেখা যায় এদেশের চালকরা শ্রম আইনের নামমাত্র আওতায়,যেখানে একজন শ্রমিকের জন্য ডিউটির একটা টাইম আছে, আর শ্রম আইনের এই টাইমটা সবাই লক্ষ্য করলেও চালোকের ক্ষেত্রে ভিন্ন রূপ দেখা যায়, কেউ মানতেই চায় না যে চালক একজন শ্রমিক,একমাত্র চালকের ক্ষেত্রে শ্রম আইন চলেনা,সেগুলো এই লেখনির মাধ্যমে সারা বাংলাদেশের মানুষকে জানাতে চাই, দেখা যায় আমাদের দেশে একটা এক্সিডেন্ট যখন হয় তখন চালক হয়ে যায় ঘাতক এবং নিরাপদ সড়কের নামে যেই আইনগুলি পাস করা হয় প্রত্যেকটা আইনই ড্রাইভার এর বিপক্ষে যারা আইনগুলি পাস করে বা নিরাপদ সড়ক দাবি করে তারা কেউ কখনো বা জানতেও চায় না এদেশের চালকরা কি কি সমস্যা নিয়ে আছে, আজকে যদি চালকদের সমস্যার কথা বলা শুরু করি তাহলে সারাদিন বললেও চালকদের সাথে হওয়া এ সমাজের অন্যায় গুলি শেষ করা যাবে না,তাই আমি একটু বলার চেষ্টা করছি,
আমি কে আমি একজন গর্বিত বাংলাদেশি ড্রাইভার
১/আমি অসম্ভবকে সম্ভব করি, সবাই যেখানে থমকে দাঁড়ায়, আমি সেখান থেকে সেবা শুরু করি আমিই পারি১৪/১৫ ঘন্টা টানা ডিউটি করতে,
আমি কে, আমি একজন গর্বিত বাংলাদেশি ড্রাইভার
২/সেবাই আমার কর্ম, সেবা দিতে গিয়ে আমি কখনোই পিছু হটিনা, কেবল আমিই দেশের অর্থনীতি সচল রাখতে সক্ষম।
আমি কে আমি একজন গর্বিত বাংলাদেশি ড্রাইভার.
৩/শুধু আমিই সেবা দিতে গিয়ে ভুলে যাই নিজের পরিবার সন্তানের কথা, সেবা দিতে ছুটে যাই দূর-দূরান্তে,সমাজ আমি অবহেলিত তবুও সেবার কোন কমতি থাকে না আমার।
আমি কে আমি একজন গর্বিত বাংলাদেশি ড্রাইভার।
৪/আমার দপ্তর থাকলেও দপ্তরীক কোনো সেবা ফ্রিতে পাইনা, পাইনা কোন চাকরির নিশ্চয়তা, আমি ভুলে যাই নিজের অধিকার কি, আমি জানি না আমার সন্তানের ভবিষ্যৎ কি।
আমি কে আমি একজন বাংলাদেশি গর্বিত ডাইভার।
৫/কেবল আমিই পারি ঝড় বৃষ্টি রোদে ডিউটিতে আসতে, চলে না কোন অজুহাত, আমার না বলার কোনো সুজগ নাই, আমি সব সময় আমার দেশ এবং যার চাকরি করি তার সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখি, আমি কঠোর পরিশ্রমি, যেখানে অন্য সবাই আট ঘন্টায় হাঁপিয়ে যায় আমি সেখানে 14-15 ঘন্টা টানা ডিউটি করি,
আমি কে আমি একজন গর্বিত বাংলাদেশি ড্রাইভার।
৬/আমি নির্ভরযোগ্য, আমি আর বুদ্ধি সম্পন্ন, আমি বুদ্ধিমান, মূল্যবান,আমি দক্ষ, আমি দায়িত্বশীল, আমি সবার থেকে আলাদা, ন্যানো সেকেন্ডের ভিতরে সিদ্ধান্ত নিতে পারি যা অন্যরা কখনোই পারবে না, তাই কেউ আমাকে ছোট করে দেখবে বা আমার অস্তিত্বের কোন সীমাবদ্ধতা মাপতে পারবে না।
আমি কে আমি একজন গর্বিত বাংলাদেশি ড্রাইভার। আমার এখানে বলা উচিত ছিল আমি কে আমি একজন হতভাগা বাংলাদেশী ড্রাইভার কিন্তু ভাষা সংযত রাখার কারণে আমি সেটা বলতে পারলাম না,আমি চালক কম শিক্ষিত কিন্তু শ্রম আইনের বাইরে না, তাই নিরাপদ সড়ক এবং যানজট নিরশনে, একজন চালকের নিরাপত্তা জীবনযাপন তিনি যে স্যালারি পায় তা দিয়ে তিনি তার ফ্যামিলি নিয়ে ঠিক ঠাক মত চলতে পারবে কিনা এই সমস্ত সকল বিষয়েই দেখা উচিত, কারন আমরা জানি একজন চালক ঠিকঠাক মতো নিরাপদে গাড়ি চালানোর জন্য দুইটা জিনিস প্রয়োজন হয় 1 এক শারীরিক সুস্থতা এবং মানসিক শান্তি, এর কোন কিছুই আমাদের দেশের চালকদের ভেতরে নাই কেননা তাকে সব সময় তার ফ্যামিলি নিয়ে টেনশনে থাকতে হয় এগুলো যতদিন সমাজ নিয়ন্ত্রণকারীরা চালকদের বিষয় নজর দিবে না ততদিন পর্যন্ত নিরাপদ সড়ক বা যানজট নিরেশনে কোন ভূমিকাই চালক রাখতে পারবেনা তাই আমি এই লেখনির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে চাই চালক নিরাপদ হইলেই কেবলমাত্র সড়ক নিরাপদ হবে। ভুল হলে ক্ষমা করবেন।