Hotz

Hotz Don't w8 for perfect moment,take the moment and make if perfect

18/10/2024

# # #

ধর্মপাল (সিদ্ধমাতৃকা লিপি: [১]) ছিলেন ভারতীয় উপমহাদেশের বাংলা অঞ্চলের পাল সাম্রাজ্যের দ্বিতীয় শাসক। তিনি ছিলেন পাল রাজ...
17/10/2024

ধর্মপাল (সিদ্ধমাতৃকা লিপি: [১]) ছিলেন ভারতীয় উপমহাদেশের বাংলা অঞ্চলের পাল সাম্রাজ্যের দ্বিতীয় শাসক। তিনি ছিলেন পাল রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা গোপালের পুত্র ও উত্তরাধিকারী। রাষ্ট্রকুট সাম্রাজ্যের শাসক মহারাজ তৃতীয় গোবিন্দের নেসারী তাম্রশাসনে গৌড়েশ্বর মহারাজ ধর্মপালকে বাঙ্গালার মহান রাজা হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।[২] মহারাজ ধর্মপাল তাঁর পৈত্রিক রাজত্বের সীমানা বহুলাংশে বৃদ্ধি করেন এবং পাল সাম্রাজ্যকে উত্তর ও পূর্ব ভারতের প্রধান রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত করেন।

মুঘল সাম্রাজ্য (আরবী: سَلْطَنَة اَلْهِنْدِيَّة সালতানাতাল হিন্দিয়া,[১১] ঐতিহাসিক হিন্দী: ہِنْدوسْتان হিন্দস্তান,[১২] ফা...
17/10/2024

মুঘল সাম্রাজ্য (আরবী: سَلْطَنَة اَلْهِنْدِيَّة সালতানাতাল হিন্দিয়া,[১১] ঐতিহাসিক হিন্দী: ہِنْدوسْتان হিন্দস্তান,[১২] ফার্সি: بلادِ هِنْدوسْتان বিলাদ-ই-হিন্দুস্তান[১৩]) ছিল ভারত উপমহাদেশের একটি সাম্রাজ্য।[১৪][১৫] প্রায় দুই শতাব্দী ধরে সাম্রাজ্য পশ্চিমে সিন্ধু অববাহিকার বাইরের প্রান্ত, উত্তর-পশ্চিমে আফগানিস্তান এবং উত্তরে কাশ্মীর, পূর্বে বর্তমান আসাম ও বাংলাদেশের উচ্চভূমি এবং দক্ষিণ ভারতের ডেকান মালভূমির উপভূমি পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। মুঘল সাম্রাজ্য মূলত পারস্য ও মধ্য এশিয়ার ভাষা, শিল্প ও সংস্কৃতি দ্বারা প্রভাবিত ছিল।
পানিপথের প্রথম যুদ্ধে ইবরাহিম লোদির বিরুদ্ধে বাবরের জয়ের মাধ্যমে মুঘল সাম্রাজ্যের সূচনা হয়।[১৮] মুঘল সম্রাটরা ছিলেন মধ্য এশিয়ার তুর্কো-মঙ্গোল বংশোদ্ভূত। তারা চাঘতাই খান ও তৈমুরের মাধ্যমে চেঙ্গিস খানের বংশধর। ১৫৫৬ সালে আকবরের ক্ষমতারোহণের মাধ্যমে মুঘল সাম্রাজ্যের ধ্রূপদী যুগ শুরু হয়।[১৯] আকবর ও তার ছেলে জাহাঙ্গীরের শাসনামলে ভারতে অর্থনৈতিক প্রগতি বহুদূর অগ্রসর হয়। আকবর অনেক হিন্দু রাজপুত রাজ্যের সাথে মিত্রতা করেন। কিছু রাজপুত রাজ্য উত্তর পশ্চিম ভারতে মুঘলদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ জারি রাখে কিন্তু আকবর তাদের বশীভূত করতে সক্ষম হন। মুঘল সম্রাটরা মুসলিম ছিলেন তবে জীবনের শেষের দিকে শুধুমাত্র সম্রাট আকবর ও তার পুত্র সম্রাট জাহাঙ্গীর নতুন ধর্ম দীন-ই-ইলাহির অনুসরণ করতেন।[২০]

মুঘল সাম্রাজ্যর কাঠামো, যাইহোক, কখনও কখনও বাবরের নাতি আকবরএর শাসনের তারিখ ১৬০০ থেকে ধরা হয়।[২১] এই সাম্রাজ্যিক কাঠামো ১৭২০ সাল পর্যন্ত স্থায়ী হয়, শেষ প্রধান সম্রাট আওরঙ্গজেবের মৃত্যুর আগ পর্যন্ত।[২২] তার রাজত্বকালে সাম্রাজ্যতার সর্বোচ্চ ভৌগোলিক ব্যাপ্তি অর্জন করে। পরবর্তীতে হ্রাস, বিশেষ করে ভারতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি শাসনামলে, পুরাতন দিল্লি এবং তার আশেপাশের অঞ্চলে, ১৮৫৭ সালের ভারতীয় বিদ্রোহের পর ব্রিটিশ রাজ দ্বারা আনুষ্ঠানিকভাবে সাম্রাজ্য ভেঙ্গে যায়।

মুঘল সাম্রাজ্য স্থানীয় সমাজে হস্তক্ষেপ করত না তবে প্রশাসনিকভাবে এসববের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা হত।[২৩][২৪] অনেক বেশি কাঠামোগত, কেন্দ্রীভূত শাসন প্রতিষ্ঠা করা হয়। মুঘল শাসনামলে উত্তর ও পশ্চিম ভারতের বিভিন্ন গোষ্ঠী যেমন মারাঠা, রাজপুত ও শিখরা সামরিক শক্তি অর্জন করে।

শাহজাহানের যুগে মুঘল স্থাপত্য এর স্বর্ণযুগে প্রবেশ করে। তিনি অনেক স্মৃতিসৌধ, মাসজিদ, দুর্গ নির্মাণ করেন যার মধ্যে রয়েছে আগ্রার তাজমহল, মোতি মসজিদ, লালকেল্লা, দিল্লি জামে মসজিদ। আওরঙ্গজেবের শাসনামলে মুঘল সাম্রাজ্যের সীমানা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌছায়। শিবাজী ভোসলের অধীনে মারাঠাদের আক্রমণের ফলে সাম্রাজ্যের অবনতি শুরু হয়। আওরঙ্গজেবের সময় দক্ষিণ ভারত জয়ের মাধ্যমে ৩.২ মিলিয়ন বর্গ কিলোমিটারের বেশি অঞ্চল মুঘল সাম্রাজ্যের অন্তর্গত হয়। এসময় সাম্রাজ্যের জনসংখ্যা ছিল ১৫০ মিলিয়নের বেশি যা তৎকালীন পৃথিবীর জনসংখ্যার প্রায় এক চতুর্থাংশ এবং জিডিপি ছিল ৯০ বিলিয়ন ডলারের বেশি।[২৫][২৬]

১৮শ শতাব্দীর মধ্যভাগ নাগাদ মারাঠারা মুঘল সেনাবাহিনীর বিপক্ষে সফলতা লাভ করে এবং দক্ষিণাত্য থেকে বাংলা পর্যন্ত বেশ কিছু মুঘল প্রদেশে বিজয়ী হয়। সাম্রাজ্যের প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক প্রক্রিয়ার দুর্বলতার কারণে অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ সৃষ্টি হয় যার ফলে বিভিন্ন প্রদেশ কার্যত স্বাধীন হয়ে পড়ে। ১৭৩৯ সালে কারণালের যুদ্ধে নাদির শাহের বাহিনীর কাছে মুঘলরা পরাজিত হয়। এসময় দিল্লি লুন্ঠিত হয়। পরের শতাব্দীতে মুঘল শক্তি ক্রমান্বয়ে সীমিত হয়ে পড়ে এবং শেষ মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহের কর্তৃত্ব শুধু শাহজাহানাবাদ শহরে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। সিপাহী বিদ্রোহের সমর্থনে তিনি একটি ফরমান জারি করেছিলেন। সিপাহী বিদ্রোহ ব্যর্থ হলে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি তার বিরুদ্ধে রাজদ্রোহীতার অভিযোগ এনে কারাবন্দী করেছিল। শেষে তিনি রেঙ্গুনে নির্বাসিত হন এবং সেখানেই মারা যান।
অবস্থা
সাম্রাজ্য
রাজধানী
আগ্রা (১৫২৬–১৫৩০; ১৫৬০–১৫৭১; ১৫৯৮–১৬৪৮)
দিল্লি (১৫৩০–১৫৪০; ১৫৫৪–১৫৫৬; ১৬৩৯–১৮৫৭)
লাহোর (১৫৪০–১৫৫৪; ১৫৮৬–১৫৯৮)[১]
ফতেহপুর সিক্রি (১৫৭১–১৫৮৫)
প্রচলিত ভাষা
ফার্সি (সরকারি ও আদালতের ভাষা)[২]
হিন্দুস্তানি (শাসক শ্রেণীর ভাষা, পরে সরকারি মর্যাদা দেওয়া হয়)[৩]
আরবি (ধর্মীয় অনুষ্ঠানের জন্য)
চাগাতাই তুর্কিক (শুধুমাত্র প্রাথমিকভাবে)
অন্যান্য ভারতীয় ভাষা
ধর্ম
রাষ্ট্রধর্ম:
সুন্নি ইসলাম (হানাফি)
দীন-ই-ইলাহি (১৫৮২–১৬০৫)
সরকার
সংঘবদ্ধ কাঠামোর অধীনে একক নিরঙ্কুশ রাজতন্ত্র
কেন্দ্রীভূত স্বৈরতন্ত্র[৪](১৫২৬–১৭১৯)
গোষ্ঠীতান্ত্রিক সাংবিধানিক রাজতন্ত্র (১৭১৯–১৮৫৭)
সম্রাট[ক]

• ১৫২৬–১৫৩০
বাবর (প্রথম)
• ১৮৩৭–১৮৫৭
দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ (শেষ)
ঐতিহাসিক যুগ
প্রাক-আধুনিক
• পানিপথের প্রথম যুদ্ধ
২১ এপ্রিল
• মুঘল অন্তর্বর্তীকাল
১৭ মে ১৫৪০–২২ জুন ১৫৫৫
• পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ
৫ নভেম্বর ১৫৫৬
• মুঘল–আফগান যুদ্ধ
১৫২৬–১৭৫২
• মুঘল–মারাঠা যুদ্ধ
১৬৮০–১৭০৭
• নাদের শাহের ভারত আক্রমণ
১০ মে ১৭৩৮–১৭৪০
• দিল্লি অবরোধ
২১ সেপ্টেম্বর
• মুঘল সম্রাটকে বার্মায় নির্বাসন
১৮৫৮
আয়তন
১৬৯০[৬][৭]
৪০,০০,০০০ বর্গকিলোমিটার (১৫,০০,০০০ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা
• ১৬৫০[৮]
১,৪৫,০০,০০০০
মুদ্রা
রুপি, টাকা, দাম[৯]:৭৩–৭৪[১০]
পূর্বসূরী উত্তরসূরী
দিল্লি সালতানাত
সুরি সাম্রাজ্য
মারাঠা সাম্রাজ্য
ভারতে কোম্পানি শাসন
বর্তমানে যার অংশ
আফগানিস্তান
বাংলাদেশ
ভারত
পাকিস্তান

বিশ্বজনীন অবস্থান নির্ণায়ক ব্যবস্থা’ বাংলায় শুনতে বেশ একটু খটোমটো লাগছে! কিন্তু GPS (Global Positioning System)! এবার ঠি...
16/10/2024

বিশ্বজনীন অবস্থান নির্ণায়ক ব্যবস্থা’ বাংলায় শুনতে বেশ একটু খটোমটো লাগছে! কিন্তু GPS (Global Positioning System)! এবার ঠিক আছে, তাই না! অচেনা কোথাও গিয়ে রাস্তা হারিয়ে ফেলেছেন কিংবা পাঠাও-উবার প্রভৃতিতে আধুনিক সেবা গ্রহণ করবেন, অথবা অনলাইনে খাবার অর্ডার করলেন, আর ঠিক আপনার ঠিকনায় চলে এল খাবার; এই সবই প্রযুক্তির এই দারুণ আবিষ্কার তথা জিপিএসের অবদান।

কৃত্রিম উপগ্রহভিত্তিক এই যোগাযোগব্যবস্থাটি মানচিত্র গঠন, পঠন ও ব্যবস্থাপনার সর্বাধুনিক প্রযুক্তি। কোনো নির্দিষ্ট স্থানের অক্ষাংশ, দ্রাঘিমাংশ, উচ্চতা, দূরত্ব প্রভৃতি অবস্থানগত তথ্য যথাযথভাবে তুলে ধরে জিপিএস। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ গত শতকের ৭০–এর দশকে আবিষ্কার করে এটি। শুরুতে কেবল সামরিক ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ থাকলেও বর্তমানে এর রয়েছে বহুমুখী ব্যবহার। বস্তুত জিপিএস ছাড়া আধুনিক বিশ্ব ভাবা যায় না।জিআইএস তথা ভৌগোলিক তথ্যব্যবস্থা মূলত একটি সফটওয়্যার বিশেষ। কম্পিউটারের মাধ্যমে ভূপৃষ্ঠ ও ভূ-অভ্যন্তরস্থ সবকিছুর তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ, বিশ্লেষণ এবং ব্যবহারোপযোগী করে উপস্থাপন করার ক্ষেত্রে এটি অদ্বিতীয় ব্যবস্থা। প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা, নগর ও গ্রামীণ পরিকল্পনা, বনায়ন পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, কৃষি পরিকল্পনা ও উন্নয়ন, সেচ ব্যবস্থাপনা, প্রকল্পের স্থান নির্বাচন, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, জনসংখ্যা জরিপ, শিল্পায়ন, টেলিযোগাযোগ, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, যোগাযোগ ব্যবস্থা, প্রতিরক্ষা ও সামরিক ব্যবস্থাপনা, সামুদ্রিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্য ইত্যাদি ক্ষেত্রে জিআইএসের ব্যবহার অপরিহার্য। বস্তুত, পরিকল্পিত, টেকসই, উন্নত দেশ বা শহর নিশ্চিতকরণে জিআইএস ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

১৯৬৩-৬৪ সালে কানাডার Agriculture Rehabilitation and Development Agency প্রথম জিআইএস ব্যবহার শুরু করে। ১৯৯১ সালে ইসপান (Irrigation Support Project for Asia and the Near East) ফ্লাড অ্যাকশন প্ল্যান-১৯ (ফ্যাপ-১৯) প্রকল্পে সর্বপ্রথম বাংলাদেশে জিআইএস ব্যবহার করে।

গিজার মহা পিরামিড বা খুফুর পিরামিড (ইংরেজি: Great Pyramid of Giza) গিজার গোরস্তানের তিনটি পিরামিডের মধ্যে সবচাইতে পুরাতন...
16/10/2024

গিজার মহা পিরামিড বা খুফুর পিরামিড (ইংরেজি: Great Pyramid of Giza) গিজার গোরস্তানের তিনটি পিরামিডের মধ্যে সবচাইতে পুরাতন এবং বড়। এটি বর্তমান মিসরের এল গিজা নামক স্থানের কাছে অবস্থিত। ১৪০ মিটার (৪৬০ ফুট) উঁচু পিরামিডে তিনটি প্রধান প্রকোষ্ঠ রয়েছে। এর গ্র্যান্ড গ্যালারির দৈর্ঘ্য ৪৭ মিটার, উচ্চতায় ৮ মিটার। বিজ্ঞানীরা পিরামিডটির ভেতরে একটি ‘বড় শূন্যস্থানের’ সন্ধান পেয়েছেন।[১]
স্থানাঙ্ক
২৯°৫৮′৪৫″ উত্তর ৩১°০৮′০৪″ পূর্ব
প্রাচীন নাম
খুফু এর হরিজন
নির্মিত
আনু. ২৫৮০-২৫৬০ বিসি (মিশরের চতুর্থ রাজবংশ)
ধরণ
সত্য পিরামিড
উপাদান
চুনাপাথর, গ্রানাইট
উচ্চতা
১৪৬.৭ মিটার (৪৮১ ফু) অথবা ২৮০ মিশরীয় রয়েল কিউবিটস
১৩৮.৮ মিটার (৪৫৫ ফু) (সমসাময়িক)
ভিত্তি
এর দৈর্ঘ্য ২৩০.৩৪ মিটার (৭৫৬ ফু) অথবা ৪৪০ মিশরীয় রয়েল কিউবিটস
আয়তন
২৫,৮৩,২৮৩ ঘনমিটার (৯,১২,২৭,৭৭৮ ঘনফুট)
ঢাল
৫১°৫২'±২'

পাল সাম্রাজ্য (৭৫০-১১৬১ খ্রি)[১][২] ভারতীয় উপমহাদেশের ধ্রুপদি পরবর্তী যুগের একটি সাম্রাজ্য ছিল। এই সাম্রাজ্যের উৎসস্থল ...
16/10/2024

পাল সাম্রাজ্য (৭৫০-১১৬১ খ্রি)[১][২] ভারতীয় উপমহাদেশের ধ্রুপদি পরবর্তী যুগের একটি সাম্রাজ্য ছিল। এই সাম্রাজ্যের উৎসস্থল ছিল বাংলা অঞ্চল। পাল সাম্রাজ্যের নামকরণ করা হয় এই সাম্রাজ্যের শাসক পাল রাজবংশের নামানুসারে। পাল সম্রাটদের নামের শেষে ‘পাল’ অনুসর্গটি যুক্ত ছিল। প্রাচীন প্রাকৃত ভাষায় এই শব্দটির অর্থ ‘রক্ষাকর্তা’। পাল সম্রাটেরা বৌদ্ধধর্মের মহাযান ও তান্ত্রিক সম্প্রদায়ের অনুগামী ছিলেন। এই সাম্রাজ্যের পত্তন ৭৫০ খ্রিষ্টাব্দে গৌড়ের সম্রাট পদে গোপালের নির্বাচনের সঙ্গে সঙ্গে ঘটেছিল।[১] অধুনা বাংলা ও পূর্ব বিহারের ভূখণ্ড পাল সাম্রাজ্যের প্রধান কেন্দ্র ছিল। এই সাম্রাজ্যের প্রধান শহরগুলি ছিল - পাটলীপুত্র, বিক্রমপুর, রামাবতী (বরেন্দ্র), মুঙ্গের, তাম্রলিপ্ত ও জগদ্দল।পাল সম্রাটরা প্রাজ্ঞ কূটনীতিবিদ ও সামরিক বিজেতা ছিলেন। তাদের সেনাবাহিনীর বৈশিষ্ট্য ছিল একটি বৃহৎ যুদ্ধহস্তী বাহিনী। তাদের নৌবাহিনী বঙ্গোপসাগরে বাণিজ্যিক ও প্রতিরক্ষামূলক ভূমিকা পালন করত। পাল সম্রাটরা ছিলেন ধ্রুপদি ভারতীয় দর্শন, সাহিত্য, চিত্রকলা ও ভাস্কর্যশিল্পের বিশিষ্ট পৃষ্ঠপোষক। তারা একাধিক বৃহদায়তন মন্দির ও মঠ নির্মাণ করিয়েছিলেন। এগুলির মধ্যে অন্যতম ছিল সোমপুর মহাবিহার। তারা নালন্দা ও বিক্রমশিলা মহাবিহারের পৃষ্ঠপোষকতাও করতেন। শ্রীবিজয় সাম্রাজ্য, তিব্বতি সাম্রাজ্য ও আরবের আব্বাসীয় খিলাফতের সঙ্গে পাল সাম্রাজ্যের সুসম্পর্ক বজায় ছিল।[৬] বাগদাদের বাইতুল হিকমাহ এই যুগেই ভারতীয় সভ্যতার গাণিতিক ও জ্যোতির্বিজ্ঞান-সংক্রান্ত কীর্তিগুলির সঙ্গে পরিচিত হয়েছিল।[৭]

খ্রিস্টীয় ৯ম শতাব্দীর প্রথম ভাগে পাল সাম্রাজ্য সর্বাধিক সমৃদ্ধি লাভ করেছিল। এই সময় পাল সাম্রাজ্যই ছিল ভারতীয় উপমহাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রধান রাজনৈতিক শক্তি। সেই যুগে এই সাম্রাজ্য বৃহত্তর পূর্ব-ভারতবর্ষ, উত্তর ও উত্তরপূর্ব ভারত, নেপাল ও বাংলাদেশ রাষ্ট্রের ভূখণ্ডে প্রসারিত হয়।[১][৮] পাল সাম্রাজ্য সর্বাধিক সমৃদ্ধি ঘটেছিল সম্রাট ধর্মপাল ও দেবপালের রাজত্বকালে। তিব্বতে অতীশ দীপঙ্করের মাধ্যমে পাল সাম্রাজ্য প্রভূত সাংস্কৃতিক প্রভাব বিস্তার করেছিল। পাল সাম্রাজ্যের সাংস্কৃতিক প্রভাব পড়েছিল দক্ষিণপূর্ব এশিয়াতেও। উত্তর ভারতে পাল শাসন ছিল ক্ষণস্থায়ী। কারণ কনৌজের আধিপত্য অর্জনের জন্য গুর্জর-প্রতিহার ও রাষ্ট্রকূটদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গিয়ে পাল সম্রাটরা পরাজিত হন। কিছুকালের জন্য পাল সাম্রাজ্যের পতন ঘটেছিল। তারপর সম্রাট প্রথম মহীপাল বাংলা ও বিহার অঞ্চলে দক্ষিণ ভারতীয় চোল অনুপ্রবেশ প্রতিহত করেন। সম্রাট রামপাল ছিলেন সর্বশেষ শক্তিশালী পাল সম্রাট। তিনি কামরূপ ও কলিঙ্গে আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন। খ্রিস্টীয় ১১শ শতাব্দীতে পাল সাম্রাজ্যের নানা অঞ্চলে বিদ্রোহ মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে। এর ফলে সাম্রাজ্যের শক্তি অনেকটাই হ্রাস প্রাপ্ত হয়।

খ্রিস্টীয় একাদশ শতাব্দীতে বরেন্দ্রতে দিব্যকের বিদ্রোহ এবং দ্বাদশ শতাব্দীতে হিন্দু সেন রাজবংশের পুনরুত্থানের ফলে পাল সাম্রাজ্যের পতন ঘটে। সেই সঙ্গে ভারতীয় উপমহাদেশের সর্বশেষ প্রধান বৌদ্ধ সাম্রাজ্যের অবসান ঘটে। বাংলার ইতিহাসে পাল যুগকে অন্যতম সুবর্ণযুগ মনে করা হয়।[৯][১০] বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে কয়েক শতাব্দীব্যাপী গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে পাল সম্রাটরা বাংলায় স্থিতাবস্থা ও সমৃদ্ধি আনয়ন করেছিলেন। পূর্বতন বঙ্গীয় সভ্যতাকে তারা উন্নত করে তোলেন। সেই সঙ্গে শিল্পকলা ও স্থাপত্যের ক্ষেত্রে অসামান্য কীর্তি রেখে যান। তাদের রাজত্বকালেই প্রাচীন বাংলা ভাষার বিকাশ ঘটে। বাংলার প্রথম সাহিত্যকীর্তি চর্যাপদ পাল যুগেই রচিত হয়েছিল। আজও তিব্বতি বৌদ্ধধর্মে পাল উত্তরাধিকার প্রতিফলিত হয়।

নেফারতিতি (খ্রিস্টপূর্ব ১৩৭০-১৩৩০) ছিল একজন মিশরীয় রানী। তার স্বামী পরিবর্তনে, তার নাম নেফের-নেফেরু-আটন সম্মানের জন্য আ...
16/10/2024

নেফারতিতি (খ্রিস্টপূর্ব ১৩৭০-১৩৩০) ছিল একজন মিশরীয় রানী। তার স্বামী পরিবর্তনে, তার নাম নেফের-নেফেরু-আটন সম্মানের জন্য আটন দেওয়া হয়েছে। এর নাম অর্থ হল " সুন্দরী এসেছে"। তথাকথিত আমারনা সময় কালের নেফারতিতি তার স্বামী অষ্টাদশ রাজবংশের, আখেনাটেন এর সাথে শাসন করেছিল (আখেনাতেনের রাজধানী এল-আমারনানে ছিল)। নেফারতিতির জীবন সম্বন্ধে অল্প জানা যায়, যদিও এইটি অসম্ভব মনে হয় যে, তিনি কোনো রাজবংশের একজন সদস্য ছিলেন। কিছু বিশেষজ্ঞ বিশ্বাস করেন যে, তার বাবা আমেনহতেপ III এর চাকরিতে আয় নামের আধিকারিক ছিলেন। নেফারতিতি আখেনাতনের ছয়টি কন্যা সন্তান জন্ম দেন। ছয়টি সন্তানের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায় নি এবং উত্তরসূরী কে হবে তা অনিশ্চিত হয়ে পরে। আখেনাতেনের উত্তরসূরী, স্মেঙ্খখারা এবং তুতাঙ্খাতন (যে তার নাম পরিবর্তন করে পরবর্তী কালে তুতাংখামুন করেছিল) তার অন্য একটি স্ত্রী কিয়ার ছেলে, যে পরে প্রধান রানী হয়েছিল এবং ১২ বছর রাজত্ব করেছিল। [১]

বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলার ও ফরাসি[২] মিত্রদের সাথে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির পলাশী নামক স্থানে যে যুদ্...
16/10/2024

বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলার ও ফরাসি[২] মিত্রদের সাথে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির পলাশী নামক স্থানে যে যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল তাই পলাশীর যুদ্ধ নামে পরিচিত। ১৭৫৭ সালের জুন ২৩ তারিখে এই যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। এই যুদ্ধে সিরাজউদ্দৌলা পরাজিত হন এবং ভারতবর্ষে ইংরেজ শাসন প্রতিষ্ঠার পথ সূচিত হয়। এই যুদ্ধ ভারতে ইংরেজ শক্তির ক্ষমতা প্রদর্শন ও প্রবেশ কে সূচিত করেছিল।যুদ্ধটি কলকাতা থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার (৯৩ মাইল) উত্তরে এবং মুর্শিদাবাদের দক্ষিণে, তৎকালীন বাংলার রাজধানী (বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের নদিয়া জেলায়) হুগলী নদীর তীরে পলাশিতে (আংলিসিসড সংস্করণ: প্লাসি) সংঘটিত হয়েছিল। যুদ্ধকারীরা ছিল নবাব সিরাজ-উদ-দৌলাহ, বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব এবং ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। তিনি আলীবর্দি খানের (তার মাতামহ) স্থলাভিষিক্ত হন। সিরাজ-উদ-দৌলা হ'ল আগের বছর বাংলার নবাব হয়েছিলেন, এবং তিনি ইংরেজদের তাদের দুর্গের সম্প্রসারণ বন্ধ করার আদেশ দিয়েছিলেন। রবার্ট ক্লাইভ নবাবের সেনাবাহিনীর প্রধান সেনাপতি মীর জাফরকে ঘুষ দেন ও তাকে পরবর্তী নবাব করার প্রতিশ্রুতি দেন । ক্লাইভ ১৭৫৭ সালে প্লাসিতে সিরাজ-উদ-দৌলাহকে পরাজিত করেন এবং কলকাতা দখল করেন।[৩]

স্যার সলিমুল্লাহর জীবনীপূর্ণ নাম: খাজা সলিমুল্লাহজন্ম: ৭ জুন ১৮৭১, ঢাকা, ব্রিটিশ ভারত (বর্তমান বাংলাদেশ)মৃত্যু: ১৬ জানুয...
15/10/2024

স্যার সলিমুল্লাহর জীবনী

পূর্ণ নাম: খাজা সলিমুল্লাহ
জন্ম: ৭ জুন ১৮৭১, ঢাকা, ব্রিটিশ ভারত (বর্তমান বাংলাদেশ)
মৃত্যু: ১৬ জানুয়ারি ১৯১৫, কলকাতা, ব্রিটিশ ভারত

প্রারম্ভিক জীবন ও পরিবার

খাজা সলিমুল্লাহ ঢাকার বিখ্যাত নবাব পরিবারের সন্তান ছিলেন। তার পিতা খাজা আবদুল গণি ছিলেন ঢাকার প্রথম নবাব, এবং তাদের পরিবার ঢাকার অন্যতম প্রভাবশালী জমিদার পরিবার হিসেবে খ্যাতি লাভ করেছিল। সলিমুল্লাহর শিক্ষাজীবন মূলত ঢাকাতেই শুরু হয়, কিন্তু পরবর্তীতে তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য কলকাতা এবং ব্রিটেনে পড়াশোনা করেন। তার পরিবার ঢাকার আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

রাজনৈতিক জীবন ও মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠা

সলিমুল্লাহর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম প্রধান দিক ছিল মুসলিমদের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষা। ১৯০৬ সালে তিনি ঢাকায় মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠা করার প্রস্তাব দেন। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর ঢাকার শাহবাগে নবাব সলিমুল্লাহর সভাপতিত্বে "অল ইন্ডিয়া মুসলিম লীগ" গঠিত হয়। মুসলিম লীগ মুসলমানদের জন্য একটি আলাদা রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে এবং পরবর্তীতে এটি পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পেছনে প্রধান ভূমিকা পালন করে।

সলিমুল্লাহ মুসলিম লীগের মাধ্যমে ভারতীয় মুসলমানদের রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে কাজ করেন এবং মুসলিমদের মধ্যে রাজনৈতিক চেতনার প্রসারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। বিশেষ করে, ব্রিটিশ ভারতের মুসলিম জনগোষ্ঠীর জন্য রাজনৈতিক স্বীকৃতি এবং আলাদা নির্বাচনী ব্যবস্থা গঠনের জন্য তার অবদান ছিল অসামান্য।

ঢাকার উন্নয়নে অবদান

সলিমুল্লাহ ঢাকার বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নমূলক কাজে সরাসরি জড়িত ছিলেন। তিনি ঢাকার পানি সরবরাহ ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা, ও শিক্ষাক্ষেত্রে উন্নয়নের জন্য নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। ঢাকার নওয়াব পরিবার ঢাকাকে একটি আধুনিক শহরে পরিণত করার জন্য অনেক অবদান রেখেছিল, এবং সলিমুল্লাহ এই উদ্যোগের অন্যতম প্রধান নেতা ছিলেন।

তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ঢাকার শিক্ষা উন্নয়নে তার অবদান তাকে ঢাকার মানুষের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয় করে তোলে। যদিও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তার জীবদ্দশায় প্রতিষ্ঠিত হয়নি, তার প্রচেষ্টা পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

বেঙ্গল বিভাজন (১৯০৫)

ব্রিটিশ সরকারের ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ নীতি বাস্তবায়নের সময় সলিমুল্লাহ এর পক্ষে অবস্থান নেন। বঙ্গভঙ্গের মাধ্যমে মুসলমানদের জন্য পূর্ববঙ্গে একটি আলাদা প্রশাসনিক ইউনিট গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সলিমুল্লাহ মনে করতেন যে, এর মাধ্যমে পূর্ববঙ্গের মুসলমানরা উন্নতির সুযোগ পাবে এবং তাদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার আরও সুসংহত হবে।

মৃত্যু ও উত্তরাধিকার

১৬ জানুয়ারি ১৯১৫ সালে স্যার সলিমুল্লাহ কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুতে ভারতীয় মুসলিম সমাজ একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে হারায়। তার রাজনৈতিক ও সামাজিক অবদান ভারতীয় উপমহাদেশে বিশেষ করে পূর্ববঙ্গের মুসলিম জনগণের জন্য ছিল অমূল্য।

ঢাকায় তার সম্মানে অনেক স্থাপনার নামকরণ করা হয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ। এছাড়াও ঢাকার বিভিন্ন স্থাপনা ও প্রতিষ্ঠান তার নামে পরিচিত। তার প্রতিষ্ঠিত মুসলিম লীগ এবং তার আদর্শ পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার ভিত্তি তৈরি করে এবং তার উত্তরাধিকার বাংলাদেশেও গভীরভাবে অনুভূত হয়।

স্যার সলিমুল্লাহ একজন দূরদর্শী নেতা ছিলেন যিনি ভারতীয় মুসলমানদের রাজনৈতিক অধিকার আদায়ে এবং পূর্ববঙ্গের উন্নয়নে অসামান্য অবদান রেখেছেন। তার কাজ এবং আদর্শ বাংলাদেশের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

Address

Nabinagar, Ashulia, Savar
Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Hotz posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share