15/09/2025
বাংলাদেশ জামাত ই ইসলাম কে ইসলামিক আলেমগণ ইসলামিক দল হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন?
বাংলাদেশ জামাত-ই-ইসলাম যদি খারাপ কাজ করে, তার দায়ভার কি আলেমরা নেবে?
না, ইসলামি আলেমদের দায়িত্ব হচ্ছে কুরআন-সুন্নাহর আলোকে সত্যকে স্পষ্ট করা। যদি অন্য যেকোনো রাজনৈতিক দল ইসলামী বিরদ্ধাচরণ করে তবে তারো দাঁত ভাঙা জবাব দিতে হবে ।
জামাত-ই-ইসলাম যেসব কাজ করেছে-মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা, বাংলাদেশকে অস্বীকার করা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দখল করা-এসব কাজ ইসলামের আদেশ নয়। কুরআন বা হাদিসে কোথাও লেখা নেই যে ইসলাম মানেই ব্যাংক-প্রশাসন দখল করা।
তারা কি বলে ক্ষমতায় এলে খেলাফত প্রতিষ্ঠা করবে? কিন্তু প্রশ্ন হলো, তারা কি কুরআন-সুন্নাহ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেয়? শরীয়াহ মোতাবেক জীবন যাপন করে? যদি সত্যিই শরীয়াহ মানত, তাহলে কেন মেয়েদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মিছিলে দাঁড় করায়? এটা তো শরীয়াহর পরিপন্থী। তাহলে কেন তাদেরকে ইসলামী দল বলা হবে? সব আলেম বা ইমাম কি তাদের সাথে আছে? বেশির ভাগ বড় বড় আলেমগণ জামাতকে সমর্থন করেননি। তাই জামাতকে ইসলামের প্রতিনিধিত্ব বলা ভুল।
এখন যদি তারা বলে “আমরা মডারেট ইসলাম আনব” প্রশ্ন হলো, ইসলাম কি কখনো মডারেট আর এক্সট্রিম হয়? ইসলাম তো একটাই, যেটা কুরআন-সুন্নাহয় আছে। যদি ছেলে-মেয়ে মিলে একাকার হয়ে যায়, ধর্মের সীমা মুছে যায়, সেটা ইসলাম না বরং মানুষের বানানো সংস্করণ যা বাংলাদেশের আলেম সমাজ কে ধ্বংস করবে । ইসলাম পরিবর্তনীয় না। কুরআন-সুন্নাহ এক হাজার চারশো বছর আগে যেমন ছিল, আজও তেমনই আছে।
বর্তমান প্রজন্ম হয়তো নতুনভাবে ইসলাম দেখতে চায়, কারণ তারা চারপাশের অবস্থা দেখে মন্দের ভেতর থেকে ভালোটা নিতে চায়। এটা সাময়িক। কিন্তু ঝুঁকি হলো, এইভাবে চলতে গিয়ে তারা আস্তে আস্তে ইসলামের আসল পথ থেকে দূরে চলে যেতে পারে। তাই তরুণদেরকে বোঝাতে হবে ইসলাম আধুনিকতার সাথে টিকে থাকতে পারে, কিন্তু তার মৌলিক দিক (তাওহীদ, ইবাদত, ন্যায়বিচার, হালাল-হারাম) কখনও পাল্টাবে না।
অনেকে ভাবছেন দিল্লী থেকে বাঁচতে পিন্ডির শাহায্য নিতে হবে যার বাংলাদেশী শাখা বাংলাদেশ জামাত ই ইসলাম । আমাদের দিল্লি আর পিন্ডি (ভারত ও পাকিস্তান) থেকে সাবধানে থাকতে হবে। যদি পাকিস্তানের দিকে যাই, তাহলে আমেরিকা দক্ষিণ এশিয়ায় ঢুকে পড়বে, পাকিস্তানের বন্ধু কিন্তু দিল্লির /চায়নার শত্রু এখন আমেরিকা ও তাদের অস্ত্র, তাই তারা পাকিস্তানের আর বাংলাদেশের সাথে মাইল ভারতের কে চাপ দিবে ,সম্পর্ক নষ্ট করে অশান্ত করে তুলবে , আবার যদি অন্ধভাবে ভারতের দিকে যাই, তাহলে তারা পূর্বের মতো আমাদের ভবিষ্যৎ ৩০–৪০ বছর নিয়ন্ত্রণ করবে।
তাহলে সমাধান কী?
আমাদের ধৈর্য ধরতে হবে , ভারসাম্য রাখতে হবে। আমেরিকা, ভারত, তুরস্ক সব দেশই দরকার, কিন্তু দেশের স্বার্থ আগে। নেগোশিয়েশন মানে আত্মসমর্পণ না, নেগোশিয়েশন মানে বুদ্ধিমত্তার সাথে নিজেদের অবস্থান শক্ত রাখা।
অর্থাৎ, বাংলাদেশকে শক্ত হতে হবে জিও-পলিটিক্সে। চোখ-কান খোলা রাখতে হবে, প্রকৃত দেশপ্রেমিকদের সামনে আনতে হবে, আর জাতিকে ধৈর্য ধরতে হবে।
সবার আগে বাংলাদেশ।