26/06/2026
হোসেন জানতেন, তিনি মারা যাবেন।
বহু সাহাবীই শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত হোসেনকে থামানোর চেষ্টা করেছিলেন, নবিজীর প্রোফেসি তো ছিলই যে হোসেনকে হত্যা করা হবে।
কিন্তু হোসেন কারো কথাই শুনলেন না।
হোসেন কারবালাতে গেলেন।
হোসেন কারবালাতে শহীদ হলেন।
শুধু নিজের জন্য না, হোসেন আমাদের জন্যও রেখে গেলেন কারবালার প্রান্তর।
শুধুমাত্র সত্য আর ইনসাফের জন্য ইমাম হোসেন মারা গেলেন।
পৃথিবীকে জানিয়ে গেলেন, শক্তি থাকুক আর না থাকুক, সত্য আর ইনসাফের পক্ষে থাকাটাই আমাদের নিয়তি।
ঐপাশে সবকিছুই ছিল।
হোসেনের পাশে কিছুই ছিল না।
পানিও না।
শুধু একটা কথা মেনে নিলেই, একটা বাক্য মেনে নিলেই হোসেনকে কি পানির অভাবে মরে যেতে হইত?
হইতো না।
ইমাম হোসেন মানলেন না।
পানির অপর নাম জীবন।
এক পাশে সত্য আর ইনসাফ
আরেক পাশে জীবনের প্রশ্নে ইমাম হোসেন চুজ করলেন সত্যকে,
মাথা উঁচু করে মারা গেলেন,
সেই মাথা এতটাই উঁচু ছিল যে সেই মাথা সীমারের ধারালো তলোয়ারও কাঁটতে পারতেসিল না,
আমাদের জীবনটাও একটা কারবালাই দিনশেষে।
এক পাশে ম্যাটেরিয়ালস, বিলাসিতা আর চাকচিক্য, আরেক পাশে সত্য আর ইনসাফ।
দুইটা এক সাথে পাওয়ার সুযোগ নাই।
এক পাশে সহজ জীবন।
আরেক পাশের জীবনে পানিও নাই, তবে আত্মা আছে।
ইমাম হোসেন পানি না পেয়ে মারা গেছেন।
খোদার দেয়া সবচেয়ে সহজ ম্যাটেরিয়ালসটুকুও তাঁর কপালে জুটল না,
কিন্তু মৃত্যুর সময় তাঁর মনে কি বিন্দুমাত্র আফসোস ছিল?
ছিল না।
আফসোস নিয়ে কেউ এত সহজে মরে যেতে পারে না,
অন্যদিকে ইয়াজিদের কাছে সবই ছিল। সব। টাকা, ক্ষমতা, অস্ত্র। কিন্তু ইয়াজিদ কি শান্তিতে মরতে পেরেছিল?
পারে নাই।
বরং ইমাম হোসেনের শাহাদাতের মাত্র দুই বছরের মধ্যে গণ বিক্ষোভে ইয়াজিদের পতন হয়।
কারবালা আমাদের শেখায়, পৃথিবীর প্রতিটি প্রান্তের মজলুম মানুষ আমাদের ভাই। শেখায়, সত্য আর মিথ্যা কখনো এক হইতে পারে না।
শেখায়, সত্যের জন্য সবকিছুই ছেড়ে দেওয়া যায়, ইভেন নিজের জীবনও। ইনসাফের জন্য লড়াই করা যায়, লড়াই করতে অস্ত্র লাগে না, আত্মাটাই যথেষ্ট।
ইসলাম জিন্দা হোতা হ্যায় হার কারবালাকে বাদ।
আমিও ইসলামকে ওভাবেই দেখি।
যতক্ষণ আপনি মজলুমের পক্ষে, যতক্ষণ আপনি ইনসাফের পক্ষে, যতক্ষণ আপনি সত্যের পক্ষে,
ততক্ষণই আপনার আত্মা আছে, ততক্ষণই আপনি মানুষ।
নামাজ এজিদও পড়ত।
এজিদেরও তো পোষা আলেম ওলামা ছিল।
লাভ কী হয়েছে?
যেই সেজদা আপনাকে অত্যাচারী শাসকের বিরুদ্ধে সোজা হয়ে দাঁড় করাইতে পারে না, সেই সেজদা দিয়ে আমাদের কী লাভ?
কারবালা শুধু ফোরাতের তীরে না, কারাবালা তো থাকতে হবে আমাদের বুকের মধ্যেও।
আমাদের সেজদা যদি অত্যাচারী শাসককেই চ্যালেঞ্জে ফেলতে না পারল, তবে সেই সেজদা আর হোসেনের সেজদা কেমনে হয়?